আমৃত্যু সংগ্রামী ছিলেন সাদেক বাচ্চু

আমৃত্যু সংগ্রামী ছিলেন সাদেক বাচ্চু
প্রয়াত জনপ্রিয় অভিনেতা সাদেক বাচ্চু

বিনোদন ডেস্কঃ
গতকাল প্রয়াত হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা সাদেক বাচ্চু। করোনাক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন এক সাহসী যোদ্ধা।

পরিবারের জন্য সংগ্রাম করেছেন, প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করেছেন চলচ্চিত্র জীবনে। চলচ্চিত্রে যারা অভিনয় করেন তাদের কাছে সাধারণত দুটি পরিবারই জীবন চলার পথে প্রায় একই রকম গুরুত্ব পেয়ে থাকে। সাদেক বাচ্চুর কাছেও এ দুটি পরিবারের গুরুত্ব ছিল সমানভাবে। মুক্তিযুদ্ধের ঠিক আগের বছর বাবা-মাকে হারান এ অভিনেতা। এরপর পাঁচ বোন, তিন ভাই, দাদি, ফুফুকে নিয়ে সংগ্রামী জীবন পার করেছেন সাদেক বাচ্চু।

নিজের পরিবারের সবার সুখের কথা বিবেচনা করে নিজের জীবনের সাফল্যের দিকে মনোযোগ দিতে পারেননি। দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে পরিবারের সবাইকে সুখে রেখেছেন। আবার চলচ্চিত্রে যখন অভিনয় শুরু করেন তখন সেখানেও আমৃত্য সংগ্রাম করেছেন। সেটি কখনও নায়ক চরিত্রে, আবার কখনও ভিলেন চরিত্রে। দর্শকের ভালোবাসার পাশাপাশি প্রশংসাও কুড়িয়েছেন বেশ। দীর্ঘদিনের পথচলায় একশ’রও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

২০১৮ সালে নায়ক আলমগীর পরিচালিত ‘একটি সিনেমার গল্প’ চলচ্চিত্রের জন্য (পার্শ্ব অভিনেতা) জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এ বছরও তার অভিনীত চারটি ছবি জমা আছে জুরি বোর্ডের টেবিলে।

অভিনয় নিয়ে আজীবন সংগ্রাম করা এ অভিনেতা জীবদ্দশায় যুগান্তরকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন- ‘সারাটা জীবনই আমি শ্রমিক শিল্পী হিসেবে অভিনয় করে গেছি। পেয়েছি এ দেশের কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা। আমি মনে করি, এখনও আমি অভিনয় শেখার চেষ্টায় আছি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অভিনয় শিখতে চাই। দর্শকের ভালোবাসার মাঝে বেঁচে থাকার জন্য নিজেকে নিবেদিত করেই আজীবন অভিনয় করে যেতে চাই।’

ভালো মানুষ
সাদেক বাচ্চু একটি নাম, একজন অভিনেতা, একটি ইতিহাস। বহু বছর আগে হুমায়ুন ফরীদি ভাই যখন সুপারস্টার, তখন তার সিডিউল পাওয়া ভীষণ দুষ্কর, উত্তম আকাশ দাদা এবং আমি চিন্তা করলাম কী করা যায়? বাচ্চু ভাইয়ের কাছে গেলাম। তিনি উত্তম দা’কে বললেন, ‘উত্তম তুমি আমার সঙ্গে মজা করছ, তোমার ছবিতে নিবা ওমর সানির সঙ্গে?’ আমি বললাম, ‘না বাচ্চু ভাই আপনি থাকবেন।’ সেই আখেরি হামলা, মুক্তির সংগ্রাম, রঙিন রংবাজসহ আরও বহু ছবিতে একসঙ্গে জুটি হলাম। আমার কাছে মনে হতো আপনি একজন ভালো মানুষের ডিকশনারি। আপনিও চলে গেলেন আমাদের রেখে! এবার বুঝি আমাদের পালা, ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি সবার কাছে, ক্ষমা করবেন। বাচ্চু ভাই আমার জীবনের ছবি হয়ে থাকবেন। আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুন।

- ওমর সানি, চিত্রনায়ক
সাবলীল অভিনেতা

অনেক ছবিতে সাদেক বাচ্চু ভাইয়ের সঙ্গে অভিনয় করেছি। তিনি খুব বড় মনের একজন মানুষ ছিলেন। তবে কিছু বিষয়ে তার আক্ষেপ ছিল। অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করলেও সেভাবে স্বীকৃতি ছিল না। তবে একজন সাবলীল অভিনেতা হিসেবে তার কদর ছিল।

আমাকে সব সময় উৎসাহ দিতেন ভালো কাজের জন্য। এ ছাড়া সহশিল্পীদের সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক ছিল তার। বিশেষ করে আমি যখন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাই তখন তিনি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। প্রায় সারা বছরই খোঁজ নিতেন আমার। এভাবে হঠাৎ করেই তিনি না ফেরার দেশে চলে গেলেন, যা খুবই কষ্টদায়ক। একজন অভিভাবক হারালাম আমি। তার মতো করে কেউ আর এখন খোঁজ নেবে না, উৎসাহ দেবে না। অভিনয় করতে গিয়ে কোনো ভুল হলে শুধরে দেবে না। আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।