চেতনায় চির জাগ্রত সৈয়দ মহসীন আলী

চেতনায় চির জাগ্রত সৈয়দ মহসীন আলী

নূরজাহান শিল্পী------

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসীন আলীর পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী।
১৪ই সেপ্টেম্বর ২০১৫ সালের এই দিনে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
এই উপলক্ষে শনিবার সকালে সৈয়দ শাহ মোস্তফা মাজার প্রাঙ্গণে মরহুমের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান পরিবারের সদস্য আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
 পরে আলোচনা সভা নিজ বাসভবনে কোরআন তেলাওয়াত ফাতেহা পাঠ মিলাদ-মাহফিল আয়োজন করেছে মহসিন আলী ফাউন্ডেশন।

সৈয়দ মহসীন আলী ১৯৪৮ সালের ১২ডিসেম্বর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল সড়কের দর্জি হলে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে 23 বছর বয়সে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
মৌলভীবাজার পৌরসভা মেয়র হিসাবে তিনবার নির্বাচিত হন তিনি।
পরে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে শ্রেষ্ঠ পৌরসভা মেয়র নির্বাচিত হন।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মৌলভীবাজার সদর আসনে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানকে হারিয়ে তিনি বিজয়ী হন।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনঃনির্বাচিত হওয়ার পর ঐ বছরের ১২ জানুয়ারি মন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন।

পরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। মন্ত্রী হওয়ার আগে অসুস্থ হয়ে বেশ কিছুদিন আইসিইউওতে থাকেন।

১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলনে এবং ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন
।১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধু মৌলভীবাজার সফরে গেলে ছাত্রলীগের পক্ষে ব্যতিক্রমী তোরণ নির্মাণ করে তিনি জাতির জনকের নজর কাড়েন। সিংহ হৃদয়ের এই মানুষটিকে চিনতে ভুল করেননি বঙ্গবন্ধু।
পরম মমতায় কাছে টেনে নেন। কোন প্রলোভন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে তাকে  বিচ্যুত করতে পারেনি।
উনার সম্পর্কে বলতে গিয়ে মহসিন আলীর সহধর্মীনি মৌলভীবাজার সদর আসনের সাবেক এমপি সৈয়দা সায়রা মহসিন  বলেন, নিজের সম্পদ মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিতে পারলেই মহসিন আলী আনন্দ পেতেন। তিনি আরও বলেন কত রাত যে ঘুম থেকে উঠে উনার মেহমানদের জন্য রান্না করতে হয়েছে তার কোন হিসাব নেই।
আনন্দে হাসি গানে ভরপুর একজন ব্যক্তি ছিলেন।
প্রায় ৪০০০ গান মুখস্ত ছিল।
 যে কোন অনুষ্ঠানে বক্তৃতার মধ্যেই তিনি গান ধরতেন। এ থেকে বুঝা যায় কতটা সরলতায় পরিপূর্ণ ছিল উনার হৃদয়।

মহসীন আলীর বাড়িতে খাবার ছিল উন্মুক্ত। ঢাকা থেকে যত বড় বড় সাংবাদিক কবি সাহিত্যিকরা মৌলভীবাজার আসতেন তার শোবার জায়গা হতো উনার বাড়িতে।
যা বড় বড় সম্পাদকেরা উনার মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে লেখা স্মরণিকায়  উল্লেখ করেছেন।
মহসিন আলীর বাড়িতে কখনো কোন গেটও ছিল না যার যখন ইচ্ছা যেতে পারতেন।
সৈয়দ মহসীন আলী ছিলেন মাটি ও মানুষের নেতা।
প্রতি ভোরে উনার বাড়িতে শত মানুষের ভিড় হতো।
সবার অপেক্ষা ঘুম থেকে উঠলেই দেখা হবে। সবাই যার যার সমস্যা সমাধানের জন্য ছুটে আসত উনার কাছে।
ঘুম থেকে উঠে উনি বারান্দায় আসতেন এবং বসতেন প্রত্যেকের সমস্যার সমাধান নিয়ে।
সবার কথা শুনতেন কাউকে টাকা দিয়ে সাহায্য, কেউ অন্যায় করেছে বুঝে ফেললে একটু বকা ও দিতেন আবার আশ্বস্ত করতেন যে উনি আছেন ।

কেউ বা মরে কথা বলে আবার কেউ বা মরে কথা না বলে।
জগতে মানব কল্যাণে যারা এসেছেন তারা মরেও কথা বলেন আমরা তাদের আদর্শ বুকে লালন করে হয়ে উঠি সুযোগ্য উত্তরসূরি। 
 
সশরীরে উনি নেই আছেন আমাদের চেতনায় , আছেন লক্ষ কোটির মন ও মননে।
তিনি তার কর্মের ভেতরে বেঁচে আছেন মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে।
আছেন অন্য অবয়বে আমাদের চেতনায়।

বাংলাভাষী অনলাইন পোর্টালের পক্ষ থেকে বিনম্রচিত্তে  স্মরণ করি ।

মহান রাব্বুল আলামীন উনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব দান করুন।