তুমি শুধু পঁচিশে জানুয়ারি

তুমি শুধু পঁচিশে জানুয়ারি

    - গোলাম রববানী 

--এসেছিলাম পঁচিশে জানুয়ারির প্রত্যুষে নিশাবসানে 

এক ছাউনি কুটোর কুটীরে আটচালা সেই কুঁড়েঘরে 

বরফ ভেজা মাটির কোণে আঁতুড়ঘরের প্রকোষ্ঠের বুকে 

হিমশীতল শীত নিয়ে শীতের শুভ্রাংশু চাদরে জড়িয়ে

চৌদিকে মৃত্তিকার প্রাচীরের কুঁডেঘরে

সুখানুভবে প্রমোদ তরী ভাসিয়েছিল

জন্মদ জন্মদার বুকে

আরো আনন্দের প্লাবনে সাঁতার কেঁটেছিল

বেরাদর সহোদরার আরও জ্ঞাতি কেহ!

আহা! কী আনন্দ!

সেই পঁচিশে জানুয়ারি-ই তো বিখ্যাত হয়ে গেলো!

বাংলা নবজাগরণের হে প্রথম বিদ্রোহী কবি, মহাকবি 

শুধু তোমাকেই তো আমি সাহিত্যের মহাগুরু মানি!

বাহ! এ কি সোনায় সোহাগ!একি চমৎকার মিল!

হয়তো একেই বলা যেতে পারে

রাজযোটক-রাশির মিল!

মিলিয়ে গেলো জন্মদিন জন্মদিবসে মহাকবিরও সনে

সুরের বাঁধনে বেঁধে সুবাদে নিঃশব্দসঞ্চারী হয়ে 

যেয়ে বললাম - 

রেখো মা দাসেরে মনে, এ মিনতি করি পদে!

তুমিই শুধু পঁচিশে জানুয়ারি,আমার একটি কবিতা হলো!

আমার আছে প্রকৃতির বিছানো ছোট্ট একটি গাঁও গ্রাম

ছোট্ট গাঁও গ্রামটির নাম ভারী সুঠাম সুকুমার-বাঁশবাড়ী

দেহাতের নাম নিশ্চয়ই রাখা হয়েছিলো বাঁশ ছিল বলে!

প্রেমিক তো পাল্টে দেয় প্রেমিকার আখ্যা দিয়ে 

ভালোবেসে তো চলে কত লেনদেন ধরণী পরে

তেমনি আমিও কবিত্ব করে নাম পাল্টে রাখলাম বাঁশবন!

কিন্তু বাঁশবাড়ী গ্রামের নাম কবে বাঁশবন হবে কে জানে?

একদা যে চক্ষু মেলে দেখেছি বাঁশঝাড়ের প্রাচুর্য ছিল 

নিগূঢ় গহীন বন বনানী ছিলো 

কাঁচি চাঁদের মত

সব ফালিফালি পথ ছিল বাংলার আল পথ ধরে

সেখানে দিবসে আঁধার হাঁকানো রাত ছিল

শিয়ালের হুক্কাহুয়া রব ছিল,ছিল খেঁকের ডাক

শালিক,সাদাবক,পানকৌড়িরা সন্ধে সকালবেলা

বসাতো নিয়ম মেনে কিচিরমিচির নানান সুরের মেলা

ফুটতো হরেকরকম ফুল পদ্ম বিলের মাঝে

তবু এখানে এখনো মিটিমিটি শিক্ষার প্রদীপ আলো!

তুমি শুধু পঁচিশে জানুয়ারি 

আর আমার একটি কবিতা-বাঁশবনের কবিতা!

২৪ ভাদ্র ১৪২৭ বঙ্গাব্দ