নব বারতার আহবানে

নব বারতার  আহবানে


   -গোলাম রববানী --

--চিত্রপটে সমান্তরাল রং তুলির ছোঁয়ায়
শুধু যেমন  ইচ্ছে তেমন ছবি এঁকো না!

মুখে হাসি আর বুকে আলকাতরার কালি মেখে
কখনো মর্মর কিংবা ঝরানো বকুল ফুটিয়ো না 
অথবা বিজয় কেতনের খামচে ধরা পতাকায়
রং-তুলির কারুকার্যে; 
শুধু বাহারি শিল্পের জলছাপে জল রং দিয়ো না!

তুমি চাইলেই আঁকতে পারো উড়ন্ত আবাবিল 
পাখির কাঙ্ক্ষিত সব ডানাঝাপটা ঝাঁক;
আঁকতে পারো কাবাঘরের তাওয়াফের 
সব শান্তিময় পক্ষীরাজ পক্ষির ছবি- 
আঁকতে পারো সেই ময়দানের ছবি!

আরো আঁকতে পারো পাবলাখালী বিলের ছবি

এস এম সুলতান কিংবা কামরুল হাসানের
মতন চিত্রশিল্পী আজ সত্যিই কী  বিরল!
পেয়েছি ইতিহাস-ঐতিহ্য, দ্রোহ প্রতিবাদ
কিংবা জীবনের সুর; আর কত কী!
ফুটিয়ে তুলেছে শিল্পের চমৎকার শিল্পকর্মে!

শুধু রগচটা রাগে রেগো না হে শিল্পী! 
ইট-পাথরের দালান-কোঠা আর বর্ষামুখর
মাথায় ছাতা শিশু শহরের ছবি এঁকো না
পেজা তুলার মত খণ্ড খণ্ড শুভ্র নভশ্চর
মিশে যাওয়ার সাগর সৈকতের ছবি 
নৈপুণ্যে শিল্প কলা করো না!
মাথাভর্তি স্বপ্নে তৈলাক্ত করো না ওহে
শুধু মনোরঞ্জন করে হাস্যমুখ হয়ো না

শুধু
হাস্যরসাত্মক ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করো না
তোমার শিল্প অমূল্য-
নিরীহ জনতার
উচ্ছিষ্ট এঁটো  চোখে মুখে ঐ নরপশুর ছবি 
তোঁমার চিত্রশিল্পের ক্যানভাসে জল রং 
কিংবা জল ছাপে ফুটিয়ো না!

ওরা তো মানষ ভেজে মানুষ খেকো 
জানোয়ার! ওরা হিংস্র ওরা বন্য!!

আজ করোনার আরশিতে আঁখির ছলিলে
অগ্নি নয়নের বর্ষায় জোয়ার এনো না
আঁখির কুলায় বাসা বেঁধে সেই বাঁধনের 
শান্তি পরমাশ্চর্যের নীড় ক্ষয়ে দিয়ো না!

এবার না হয় একটু ভালো বাসাবাসি করো
মুক্ত বিহঙ্গের ডানামেলে উড়া সাদা পালক বক্ষে!
আগুন ঝরা চোখে বন্যা এনো না
ঐ আঁখির জল অমূল্য সোনার মাটি!
ভেবে দেখেছো কী তোমার প্রিয়া কতটা খাঁটি!

আমার কবিতার খাতা যেমন ইচ্ছে তেমন
খালিখালি শূন্য লেখার পাতা ভরিয়ো না
তোমার ভরাট কন্ঠের আবৃত্তিতে প্রেমের
কথার ফুলঝুরি ঝরিয়ো না! 
আবৃত্তির ঝলকানি ঝলমলে হোক
মার্টিন লুথারের কিং এর ভাষণ
আমার একটি স্বপ্নের মতন!
কিংবা
মুক্তির সংগ্রাম ভাষণের মত
স্বাধীনতা তো পেয়েছি, না পাওয়ারই মত,
পিঞ্জর খোলা মুক্ত পাখির মুক্তির পূর্ণতা 
ফিরে আসুক আকাশে বাতাসে 

মুক্তির বারতা নিতে চলে এসো
স্বাধীন দেশের পতাকায় 
মুক্তির পসরা সাজিয়ে;
ওগো বুকে শান্তি না নিয়ে তুমি আর এগিয়ো না!