বন্যা মোকাবিলায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী

বন্যা মোকাবিলায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাভাষী ডেস্ক :

বন্যা মোকাবিলায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে, এমন পরিস্থিতিতে সরকারের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘বন্যা শুরু হয়েছে, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্যার ঝুঁকিটা আমাদের থাকে, পানিটা নেমে আসবে দক্ষিণ অঞ্চলে। সেজন্য আগাম প্রস্তুতি আমাদের আছে।’

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার সকালে নিজের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বন্যা পরিস্থিতির পাশাপাশি পদ্মা সেতু নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সিলেট অঞ্চলে এবারের ভয়াবহ বন্যার কথা তুলে ধরে সেখানে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বন্যাকবলিত সিলেট অঞ্চলে ১ হাজার ২৮৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ৩০০ মেডিকেল টিম কাজ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আগেই নির্দেশ দিয়েছিলাম, পানি যাতে দ্রুত নেমে যেতে পারে, প্রয়োজনে রাস্তা যেন কেটে দেয়। এটাও আমাদের একটা শিক্ষা, কোন জায়গা থেকে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে, কারণ আমাদের এখানে তো বন্যা আসবেই। সেটা চিহ্নিত করে রাখতে বলেছি, সেখানে ব্রিজ কালভার্ট এমনভাবে করে দেব, যাতে পানি জমা থাকতে না পারে।’

ওই অঞ্চলে আরও বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র করার পাশাপাশি বন্যার কথা মাথায় রেখে অবকাঠামো করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক দিন এরকম বন্যা হয়নি, আবার বন্যা আসলো। সেইভাবে অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। বন্যার পর কৃষক যেন কৃষিকাজ করতে পারে, সেজন্য বীজ, সারের ব্যবস্থা করা হয়েছে’  বলেও তিনি জানান।

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে জানিয়ে শেখ হাসিনা কষ্ট করে যারা বন্যার মধ্যে কাজ করেছেন, সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগের নেতা-কর্মীদের দুর্গত মানুষদের সহায়তা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা দুর্গত এলাকায় ত্রাণকাজ চালাচ্ছে। আমি গতকাল নিজে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী  বলেন, ‘মঙ্গলবার পর্যন্ত বন্যাকবলিত ১১টি জেলায় ৯০০ মেট্রিক টন চাল এবং ৩ কোটি ৩৫ লাখ নগদ টাকা এবং ৫৫ হাজার শুকনো ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে যেটা সবচেয়ে বেশি দরকার, তা হলো শুকনো খাবার এবং বিশুদ্ধ পানি। আমরা তার ব্যবস্থাই করছি। আমাদের দলের নেতা-কর্মীরাও সাধ্যমতো দুর্গত মানুষের ঘরে শুকনো ও রান্না করা খাবার পৌঁছে দিচ্ছে।’