মাথার খুলি ও জাগরণের গান

মাথার খুলি ও জাগরণের গান
মোহাম্মদ হোসাইন --
---কিছু খুলি নিয়ে এসেছি কবর খুঁড়ে
অথবা বলা যেতে পারে, আমিই এসেছি খুলির কাছে তাদের দেখব বলে।
কতকাল আগের খুলি কিংবা কতদিন আগের সেটা আমার কাছে বিবেচ্য নয়
আমি দেখতে এসেছি খুলি, খুলি এবং খুলি।
মানুষের খুলি পঁচে না কিংবা বলা যায় নষ্ট হয় না বা পোড়ে না
প্রত্যেক খুলিরই একটা ইতিহাস আছে, মাহাত্ম্য আছে
এই যেমন যুদ্ধে যারা নিহত হয়েছে তাদের খুলির যেমন একধরনের ইতিহাস, মাহাত্ম্য আছে, আবার
স্বাভাবিক মৃত্যুর, দুর্ঘটনার কিংবা ফাঁসির মৃত্যুর আরেক ধরনের মাহাত্ম্য আছে
যুগ যুগ পরে, কিংবা শত শতাব্দী শেষে মানুষ সেইসব খুলি দেখে, সেইসব ফসিল দেখেই নির্ণয় করে তার সভ্যতা, তার অস্তিত্বের স্মারক। তাই, সেই খুলি নিয়ে এসেছি আমার পূর্বপুরুষ, তাদের পূর্বপুরুষ, তাদেরও পূর্বপুরুষের জাত্যাভিমান, রাগ, দুঃখ, ক্ষোভ, ভালবাসার জিনোম কোড জানবো বলে।
আমরা আসলে জেনে হোক বা না জেনে হোক প্রত্যেকেই ইতিহাসের খুলিই বহন করে চলেছি। বহন করে চলেছি অমিয় রক্তস্রোত মানুষের খুলির,  সৃষ্টিতত্ত্বের।
আমাদের মাথার উপর যে, সূর্য, যে নক্ষত্র আলো ছড়িয়ে যায় প্রতিনিয়ত, কিংবা যে চাঁদ নরম কিরণ দিয়ে কারণে - অকারণে ভরিয়ে দেয় আমাদের মন, আমাদের পিপাসিত জীবন, আমরা তাতে বেশ আহ্লাদিত হই, আমোদিত হই। বুকের ভেতরের  নিঃসীম শূন্যতাগুলোকে নদীর কাছে, পাহাড়ের কাছে জমা রেখে আসি। অথবা নির্জন রাত্রির কাছে সমর্পণ করে দি'। আমরা আসলে দুঃখকে ভয় পাই। কখনো কখনো খুব একা হয়ে গেলে একাকী নদীর মত ঢেউ আসে, কান্না আসে। কান্নাও অভিক্ষেপ, ভালবাসার মৃন্ময় উচ্চারণ। 
তখন আমার কিংবা আমাদের বুকের ভেতর পাগলা কানাই, ফকির লালন সাঁই! 
একদিন সেই খুলির ভেতর থেকেই বেরিয়ে আসবে জাগরণের গান...