রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: ‘তহবিল সংগ্রহের চেষ্টায়’ মিয়ানমারের সামরিক সরকার

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: ‘তহবিল সংগ্রহের চেষ্টায়’ মিয়ানমারের সামরিক সরকার

বাংলাভাষী ডেস্কঃ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন ও চীনের কাছ থেকে নিজেদের দূরে রাখতে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের নিযুক্ত এক ইসরায়েলি-কানাডীয় লবিস্ট জানিয়েছেন, দেশটির সেনা কর্মকর্তারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে চায়। এজন্য তারা সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন একটি তহবিল সংগ্রহের জন্য। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এখবর জানিয়েছে।

আরি বেন-মেনাশে নামের এই লবিস্ট ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একজন সাবেক কর্মকর্তা। এর আগে তিনি জিম্বাবুয়ের রবার্ট মুগাবে এবং সুদানের সামরিক শাসকদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বেন-মেনামে জানান, তাকে ও তার প্রতিষ্ঠান ডিকেন্স অ্যান্ড ম্যাডসন কানাডাকে মিয়ানমারের জেনারেলরা নিয়োগ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রসহ যেসব দেশ তাদের ‘ভুল বুজছে’ তাদের সঙ্গে যোগাযোগে সহযোগিতা করার জন্য।

তিনি দাবি করেছেন, ২৯১৬ সাল থেকে মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি চীনের খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। মিয়ানমারের জেনারেলরা চীনের পুতুল হতে চান না। ফলে আমাদের মূল কাজ হচ্ছে চীনবিরোধী পশ্চিমা ও যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ঘনিষ্ঠ করা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন সামরিক অভ্যুত্থানকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

ইসরায়েলি-কানাডীয় লবিস্ট জানান, মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদো সফরে শেষে এখন দক্ষিণ কোরিয়া থেকে তিনি কথা বলছেন। নেপিদোতে তিনি জান্তা’র প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল মিয়া তুন ও-এর সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে তাকে অঘোষিত ফি দেওয়া হবে।

শনিবার এই বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্য চেয়ে সামরিক সরকারের এক মুখপাত্রকে ফোন দেওয়া হলে তিনি তা রিসিভ করেননি।

বেন-মেনাশে জানান, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনায় সহযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য তাকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মূলত তারা যাকে বাঙালি বলে তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য কিছু তহবিল যোগাড়ের চেষ্টা করা।

উল্লেখ্য, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের জাতিগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকার করে না। তারা রোহিঙ্গাদের বাঙালি বলে দাবি করে আসছে।