শিক্ষকেরাই হলেন জাতির মেরুদন্ড

শিক্ষকেরাই হলেন জাতির মেরুদন্ড


কলমে - শিবব্রত গুহ


শিক্ষক দিবসের সাথে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। এই দিবস সম্বন্ধে আমরা অনেকেই অনেক কিছু জানি। প্রতি বছর ৫ই সেপ্টেম্বর,
সারা ভারত জুড়ে শ্রদ্ধার সাথে শিক্ষক দিবস
পালন করা হয়ে থাকে। শিক্ষক দিবসের গুরুত্বই
আলাদা। যা ভাষায় যথাযথ প্রকাশ করতে আমি অক্ষম। তবুও, আমি এখন আপনাদের সামনে শিক্ষক দিবস সম্বন্ধে কিছু আলোকপাত করার চেষ্টা করবো।

শিক্ষা জ্বালায় মানুষের মনে জ্ঞানের পবিত্র আলো। এই আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে, মানুষ পারে
ভালো মন্দ, সত্য অসত্যের বিচার করতে। কোন মানুষের জীবনে যদি শিক্ষার আলো না পৌঁছায়,
সেটা বড়ই দুর্ভাগ্যের ব্যাপার। এই দায় দেশের সরকারের। দেশের সরকারের দেখা উচিত, যাতে,
একজন মানুষও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়।

এই শিক্ষা আমাদের যিনি বা যাঁরা, আমাদের দান করেন, তিনি বা তাঁরাই হলেন শিক্ষক। শিক্ষা দান
মহান দান বলে পরিগনিত হয়। শিক্ষকেরা হলেন জাতির মেরুদণ্ড। একটা উন্নত জাতি
গঠন করার জন্যে, শিক্ষকদের একটি বিরাট ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষকেরা আমাদের সমাজে বড়ই শ্রদ্ধার পাত্র। একজন ছাত্র বা ছাত্রীর জীবন
ও চরিত্র গঠনেও শিক্ষকের অবদান থাকে।
কোন ছাত্র বা ছাত্রী ভুল করলে, শিক্ষক, তাদের সেই ভুল খুব যত্নসহকারে সংশোধন করে দেন।


শিক্ষক ছাত্র ও ছাত্রীদের জীবনে এক বড় অভিভাবকের ভূমিকা পালন করে থাকে।
তবে, শিক্ষকেরা শুধু আমাদের দেশ ভারতবর্ষেই
নয়, সারা পৃথিবীতে শ্রদ্ধেয় ও সন্মানীয়। এই শিক্ষক দিবস পালনের রীতি গোটা পৃথিবী জুড়েই
আছে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই ৫ই অক্টোবর দিনটিকে, " বিশ্ব শিক্ষক দিবস " হিসাবে পালন
করা হয়ে থাকে, ১৯৯৫ সাল থেকে। দেশগুলো হল, কানাডা, জার্মানি, বুলগেরিয়া, ইস্তোনিয়া,
লিথোনিয়া, মলদ্বীপ, নেদারল্যান্ড, পাকিস্তান,
ফিলিপাইন, কুয়েত, কাতার, রাশিয়া, ইংল্যান্ড প্রভৃতি।


আবার, পৃথিবীর কিছু দেশে , ২৮ শে ফেব্রুয়ারী দিনটিকে, শিক্ষক দিবস হিসাবে পালিত হয়ে থাকে। তাদের মধ্যে, মরক্কো, মিশর, সৌদি আরব,
ইয়েমেন, জর্ডন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।


আমাদের দেশ ভারতে, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি, ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ - এর জন্মদিন, ৫ ই সেপ্টেম্বর, বিশেষ মর্যাদার সাথে, " শিক্ষক দিবস " - রূপে পালিত হয়। তিনি ভারতরত্ন উপাধি পেয়েছিলেন। তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ। মহান দার্শনিক ছিলেন তিনিও।
একজন বাগ্মী, অধ্যাপক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন
রাধাকৃষ্ণণ। তিনি ছিলেন স্বাধীন ভারতের
প্রথম উপরাষ্ট্রপতি ও দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি।


শোনা যায়, একবার তাঁর কিছু ছাত্র ও অধ্যাপক বন্ধুরা, তাঁর জন্মদিন পালন করতে গেলে,
রাধাকৃষ্ণণ বলেছিলেন তাঁদের, " আমার জন্মদিন
পৃথক ভাবে পালন না করে আমি গর্বিত হব, দিনটি
যদি দেশের সমস্ত শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে পালন করা হয়। "


বর্তমান তামিলনাড়ু ও তৎকালীন মাদ্রাজ প্রদেশের তিরুতান্নিতে এক গরীব ব্রাক্ষণ পরিবারে, ১৮৮৮ সালের ৫ ই সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ছেলে পূজারি হোক, এমনটাই
চাইতেন তাঁর বাবা। বাবা কখনও জাননি,
ছেলে ইংরেজি পড়ুক। কিন্তু, অদম্য জেদের
অধিকারী ছিলেন রাধাকৃষ্ণণ। শেষে, তাঁর জেদের কাছে তাঁর বাবা হার মেনে নেন।


মেধাবী ছাত্র রাধাকৃষ্ণণ স্কুলজীবনে, অসংখ্য
স্কলারশিপ পেয়েছেন। তাঁর বয়স যখন মাত্র ২০ বছর, তখন তাঁর বেদান্ত দর্শন বিষয়ে, গবেষণামূলক প্রবন্ধ হয়েছিল প্রকাশিত।
ছাত্রছাত্রীদের কাছে, তিনি ছিলেন অসম্ভব জনপ্রিয়। মহীশুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার উদ্দেশ্যে, যখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বিদায় নিচ্ছেন, তখন তাঁর পড়ুয়ারা ফুলসজ্জিত গাড়ির ব্যবস্থা করে, তাঁকে হাওড়া স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিল।


তাঁর রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালে, দুটো যুদ্ধে যেতে হয়েছিল ভারতকে। তার মধ্যে প্রথমটা ছিল
১৯৬২ সালে, চিনের সাথে যুদ্ধ। আর ছিল পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ।

শিক্ষকদের সাথে ছাত্রছাত্রীদের সম্পর্ক বড়ই
মধুর ছিল আমাদের দেশ ভারতবর্ষে, সেই সুদূর প্রাচীনকাল থেকে। শিক্ষকেরা ছাত্রছাত্রীদের
জীবনে বড় হতে ও প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করে
চলেন সবসময়। এরকম অনেক উদাহরণ আমাদের সমাজের বুকে ছড়িয়ে আছে।
আজ শিক্ষক দিবসের পুণ্যলগ্নে, মহান শিক্ষকদের প্রতি আমার যথাযোগ্য শ্রদ্ধা ও
সন্মান জানিয়ে আমার এই লেখায় ইতি টানছি।



( তথ্য সংগৃহীত)




শিবব্রত গুহ
৩/এ, কে.পি.রায়.লেন,
পোস্ট অফিস - হালতু,
থানা - গড়ফা,
কোলকাতা - ৭০০ ০৭৮,
মোবাইল - 84204 16400. (WhatsApp).