শতভাগ যাত্রী নিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

শতভাগ যাত্রী নিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

নিজস্ব প্রতিদেবকঃ
শুরু হয়েছে ট্রেনে শতভাগ যাত্রী পরিবহন। যেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্ত রেখেই বাংলাদেশ রেলওয়ে তাদের সকল ট্রেনে শতভাগ যাত্রী পরিবহন শুরু করে। তবে প্রথম দিনেই স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় করতে দেখা গেছে। একইসাথে দেখা গেছে যাত্রীদের রেল ভ্রমণ করতে।

বুধবার সকালে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের গোটা পরিবেশটাই ছিলো এমনই। স্টেশনে প্রবেশের মুহূর্তে অধিকাংশ যাত্রীদের মুখে মাস্ক নেই। আবার যাদের আছে তাদের অনেকে মাস্ককে ফ্যাশন আইটেম বানিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছেন থুতনির নিচে। অনুপস্থিত ছিলো সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার লক্ষ্মণ।

যদিও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছেন, তারা বারবার যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছেন। এমনকি মাইকিং করছেন। তবে সরেজমিনে রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে তেমন কোন তৎপরতা চোখে পড়েনি।

এদিকে সকাল থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে সিলেট ত্যাগ করেছে আন্তঃনগর কালনী এক্সপ্রেস ও জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস। এছাড়া চট্টগ্রামের পথে সিলেট থেকে যথা সময়ে ছেড়ে গেছে পাহাড়িকা এক্সপ্রেসও। এসকল ট্রেনের যাত্রীদের অধিকাংশ মানুষের মুখে মাস্ক নাই এবং স্বাস্থ্যবিধির যেসব নিয়মের কথা বলা হচ্ছে তার বেশিরভাগই তাদের মধ্যে অনুপস্থিত। আবার অনেককে দেখা গেছে মাস্ক থুঁতনির নিচে ঝুলিয়ে পান ও সিগারেট খেতে। এসময় কিছু লোককে মাস্ক না পরে অযথা প্লাটফর্মে ঘুরাঘুরিও করতে দেখা যায়।

এ সময় কথা হয় রাকিবুল হাসান নামের এক যাত্রীর সাথে। তিনি জানান, ‘আর কত মানবো। আগে তো মানছিলাম, কিন্তু এখন অনেক যাত্রীই আসছেন মাস্ক ছাড়া। এছাড়া মাস্কে দম আটকে আসে তাই খুলে রেখেছি’ এদিকে সচেতন যাত্রীদের অভিযোগ এভাবে চলতে থাকলে দেশে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি আরও বাড়তে থাকলে। এতে বিপদে পড়তে হবে সকলকেই।

চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের এক যাত্রী মুহিবুল ইসলাম বলেন, আমাদের স্বাস্থ্যবিধির যেসব কথা বলা হয়েছে তার বেশিরভাগই এখানে মানা হচ্ছে না। এতে ঝুঁকিতে রয়েছি আমরা সাধারণ মানুষজন। এখানে যারা ট্রেনের দায়িত্বে আছেন তারাও স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। আর আমরা যারা টিকিট কেটে রেল ভ্রমণ করছি তারাও ঘেঁষাঘেঁষি করে আছি। নিজেকে যতই নিরাপদে রাখতে চাই না কেন, বাইরে অধিকাংশ মানুষই এসব মানছেন না। আর তাদের কারণেই সকলকে বিপদে পড়তে হবে।’

এ বিষয়ে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার খলিলুর রহমান সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে যাত্রীদের সতেচন করার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছে। এমনকি আমরা মাইকিং করে বারবার স্বাস্থ্যবিধি মানার উপরে জোর দিচ্ছি এবং তা মেনে চলতে তাদের অনুরোধ করছি। স্টেশনের মাইকের পাশাপাশি ট্রেনের ভিতরের মাইকেও ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মানতে। এমনকি টিকিট কাউন্টারে থেকে টিকিট ক্রয়ের সময়েও তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ করছি।

তাও যাত্রীরা সচেতন না হয়ে, মাস্ক না পরে ট্রেনে চরছেন বা কাউন্টারে প্রবেশ করছেন কিভাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসকল যাত্রীদের মুখে বলা ছাড়াতো আমরা তাদের উপর বল প্রয়োগ করতে পারি না। আমরা তো আর এটা করতে পারি না যে, যারা টিকিট কিনে ট্রেন ভ্রমণ করছেন তাদের আমরা ফিরত পাঠাবো। 

প্রসঙ্গত, রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেনের শতভাগ টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৫০ ভাগ টিকিট অনলাইনে ও ৫০ ভাগ টিকিট স্টেশনের কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হবে। করোনা পরিস্থিতির কারণে ৩১ মে থেকে ট্রেনের ৫০ ভাগ আসন ফাঁকা রাখা হচ্ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব আসনের টিকিটই বিক্রি করা হচ্ছে।