স্মরণে কবিগুরু

স্মরণে কবিগুরু

স্মরণে - কবিগুরু
           জন্ম —৭ই মে ১৮৬১
            মৃত্যু —৭ই আগস্ট ১৯৪১

কংকা চৌধুরী

বাংলা সাহিত্য জগতে সর্ব শ্রেষ্ঠ বলে যদি কেউ থেকে থাকেন তাহলে উনি অবশ্যই কবি কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
বাংলা সাহিত্যের উৎকর্ষ বৃদ্ধিতে যারা অবদান রেখে গেছেন তার মধ্যে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অন্যতম।
যিনি বাংলা ভাষাকে নিয়ে গেছেন অনেক 
উঁচুমাত্রায়।
বাংলা সাহিত্য আজকে যে দাপটের সঙ্গে নিজেকে উপস্থাপন করার প্রয়াস পাচ্ছে তার মূলে রয়েছে-কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টি কর্মের বদৌলতেই।
তিনি একাধারে কবি , ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক , চিত্রশিল্পী এবং সঙ্গীতজ্ঞ ও বটে।
বর্তমান সময়ে রবীন্দ্র- সাহিত্যের পাঠক 
সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। একটু দৃষ্টি দিলেই আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, সাধারন সাহিত্য পাঠকদের মধ্যে ও রবীন্দ্ররচনা সম্পর্কে আগ্রহ অনুভূতহচ্ছে। কেননা দেখা যাচ্ছে , পাঠক রুচির দিকে লক্ষ্য রেখে এখন রবীন্দ্র রচনার নির্দিষ্ট বিষয় ভিত্তিক নির্বাচিত সংকলন গ্রন্থের সংখ্যা ক্রমশই বেড়ে চলছে।
তিনি জমিদার বংশে জন্ম নিয়ে ও তিনি জমিদারের বিরুদ্ধে কলম ধরার মতো সাহস দেখিয়েছিলেন।যেটা বিশ্বের যে কোনো সাহিত্য ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
জমিদার বা মহাজনদের সুদ প্রথার বিরুদ্ধে তিনি লিখেছেন "যা ছিল মোর বিঘে তিন ভাই , তার সবি গেছে ঋণে।”
জমিদার পরিবারের সদস্য হিসেবে তাঁর চলা- ফেরায় ছিল কড়াকড়ি ও নানা বিধিনিষেধ।তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যেখানে- সেখানে যেতে পারতেন না।
তবে একটা সুন্দর সুযোগ আসে বাংলাদেশ ভ্রমণের, যেটা তাঁর সৃষ্টিতে এক অসাধারণ প্রভাব বিস্তার করে আছে। তাঁর সাহিত্য জীবনের এক সোনালী সময় কেটেছে সিরাজগঞ্জের শাজাদপুর ও শিলাইদহে।
বাংলাদেশে অবস্থান করার কারনে জীবনের গতি প্রকৃতি ও বাস্তব জীবনকে যেভাবে উপলব্ধি করেছেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে, তাই লেখনীর মাধ্যমে ফুটে উঠেছে সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায়।
তিনি তাঁর "ছিন্নপত্রে" লিখেছেন—তিনি তাঁর আত্মীয়দের সঙ্গে বাংলাদেশে যদি না আসতে পারতেন, তবে হয়তো তাঁর গীতাঞ্জলীর মতো মহামূল্যবান কাব্য রচনা করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতেন।
যা পরবর্তীকালে তাঁকে সাহিত্যের জন্য 
সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি স্বরূপ নোবেল পুরস্কার অর্জনের গৌরব এনে দেয়। তিনি ১৩ টি উপন্যাস রচনা করেছেন।তার মধ্যে চোখের বালি, গোরা, ঘরে বাইরে, চতুরঙ্গ, শেষের কবিতা ও চার অধ্যায় বেশ প্রসিদ্ধ।আর রবীন্দ্রনাথের সবচেয়ে বেশি পরিচিত 
কাব্যগ্রন্থ গিতাঞ্জলি।যা তাঁকে প্রথম বাঙালী হিসেবে নোবেল পুরস্কার এনে দেয়।
পরিশেষে, বাংলা সাহিত্য ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অবিচ্ছেদ্য অংশ।রবীন্দ্রনাথ কে বাদ দিয়ে কখন ও বাংলা সাহিত্য কল্পনা ও করা যায় না।
আজ তাঁর প্রয়াণ দিবসে গভীর শ্রদ্ধা ও প্রনাম জানাই।
            কংকা চৌধুরী।
                ইংল্যাড।