সিলেট নগরীর যত্রতত্র পশু কোরবানি, বাড়ছে করোনাসহ স্বাস্থ্যঝুঁকিও

সিলেট নগরীর যত্রতত্র পশু কোরবানি, বাড়ছে করোনাসহ স্বাস্থ্যঝুঁকিও

নিজস্ব প্রতিদেবক :: করোনাকালে স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় সিলেট নগরীর ২৭ টি ওয়ার্ডে পশু কোরবানির জন্য স্থান নির্ধারণ করে এসব স্থানে কোরবানি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলো সিটি করপোরেশন (সিসিক)। তবে সিটি করপোরেশনের এই আহ্বানে তেমন সাড়া মেলেনি।

শনিবার নগরীর সবকয়টি ওয়ার্ডেই যত্রতত্র পশু কোরবানি দিতে দেখা গেছে। বেশিরভাগ নগরবাসীই নির্দিষ্ট স্থানের বদলে নিজের বাসার আঙ্গিনায় কিংবা বাসার সামনে সড়কে কোরবানি দেন। কেউবা আবার এলাকায় প্রধান সড়ক সংলগ্ন অনেক মার্কেট ও শপিং মলের সামনের খোলা জায়গায় দল বেঁধে একসাথে অনেকগুলো গবাদিপশু কোরবানির দিচ্ছেন।

এ সময় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। কোরবানির স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত জীবাণুনাশক ছিটাতে দেখা যায়নি। পশুর রক্ত ও বর্জ্য ড্রেন হয়ে ছড়া খালে ও সারাসরি রাস্তায়। পথচারী ও যানবাহনের চাকায় জড়িয়ে তা ছড়াচ্ছে নগরজুড়ে।

এতে করে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা জানিয়েছেন এসব বর্জ্য ও রক্ত ছড়িয়ে যাওয়াতে নানারকম অসুখ বিসুখ ছড়ানোর সম্ভাবনা আছে।

কিন্তু ঈদের আগেই নগরীর ২৭ ওয়ার্ডে ৩০ টি স্থানে পশু কোরবানির ব্যবস্থা করে রাখে নগর কর্তৃপক্ষ। একই সাথে সে সকলস্থানে পশু কোরবানি দেয়ার আহ্বানও জানায় সিটি করপোরেশন (সিসিক)। তবুও নগরবাসী যত্রতত্র পশু কোরবানি দিয়েই চলেছেন।

নির্ধারিত স্থানে কেন পশু কোরবানি করছেন না? এমন প্রশ্নের জবাবে নগরীর অনেকেই জানান, করোনাভাইরাসের কারণে সব নির্দেশনা মানা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে মাত্র একটি স্থান নির্ধারণ করে দেওয়ায় সেসব স্থানে গিয়ে পশু কোরবানি দেয়া প্রায় অসম্ভব বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।
 
নির্ধারিত স্থানে কোরবানি প্রধানের আহ্বানে সাড়া না দেওয়া প্রসঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশনের কনজারভেন্সি অফিসার হানিফুর রহমান বলেন, এটি নতুন একটি উদ্যোগ। তাই খুব একটা সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া প্রচার প্রচারনাও কম হয়েছে। তাই অনেকেই বাড়ির আঙ্গিনা ও রাস্তাঘাটে পশু কোরবানি দিয়েছেন। আগামীতে এ ব্যাপারে আরও প্রচারণা চালাতে হবে। তাছাড়া নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষার উদ্যোগী হতে হবে।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে নগরের ২৭টি ওয়ার্ডের ৩০টি স্থানে নগরবাসীর পশু কোরবানির জন্য স্থান নির্ধারণ করে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।

সিলেট সিটি করপোরেশনের কোরবানির নির্ধারিত স্থানগুলো হল, ১ নম্বর ওয়ার্ডের মীরের ময়দান এলাকার অর্ণব ৩০ নম্বার বাসার সামনের খোলা জায়গা, ২ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন মেডিকেল কলোনি, ৩, ১২, ১৭, ১৯, ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের অফিস সংলগ্ন মাঠ, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের বাসা সংলগ্ন খোলা জায়গা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় মাঠে কোরবানির পশু জবাইয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

৫, ৬, ৭, ৮, ১১ ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে পশু কোরবানির স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় সংলগ্ন মাঠ। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য নির্ধারিত স্থান- আম্বরখানা কলোনি মাঠ, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কোরবানিদাতারা পশু কোরবানি দিবেন এতিম স্কুল রোডের জবাইখানায়, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাসিটুলা কলাপাড়া ওয়ার্কশপের মাঠ ও নবাব রোড পিডিবি কোয়ার্টার, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীরবাজার মাদ্রাসার মাঠে হবে কোরবানী।

১৫ নম্বর ওয়ার্ডের শাহজালাল জামেয়া স্কুল এন্ড কলেজ মাঠ, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সওদাগরটুলা মাঠ, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বাসার সামনের মাঠ, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দ হাতিম আলী (রহ.) উচ্চবিদ্যালয় মাঠ, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দ হাতিম (রহ.) সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ  এবং ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কোরবানির জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে উপশহরের এ ব্লকের ২৭ নম্বর রোডের মাঠ ও ই ব্লকের খেলার মাঠ।