বৃহস্পতিবার ১ জানুয়ারি, ১৯৭০
নুসরাত ট্রাজেডি থেকে কি পেলাম?
১৬ এপ্রিল, ২০১৯

 

খতিব তাজুল ইসলাম 

৫২ বছর বয়সি সাবেক অধ্যক্ষ এই সিরাজউদ দৌলা আজকের যৌননিপীড়ক ছিলনা। ছাত্র জামানায়ও যৌন হয়রানির কারণে খেয়েছে গণধুলাই। আরেক মাদরাসায় অধ্যক্ষ থাকাকালীন বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। এক জামানায় সে জামাতের রাজনীতি করতো। এখন সকলের দল করে। বিএনপি হলে যায় তাদের ছায়ায়। এখন আছে আওয়ামীলীগের ছত্রছায়ায়। লোকাল কাউন্সিলার মকসুদ আলি, জেলা সভাপতি রুহুল আমিন, শাহাদত হোসেন শামিম। ওরা সবাই আওয়ামীলীগের লোক। উপরন্তু সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনও তার বগলের নীচে। টাকা দিয়ে বুদ্ধি দিয়ে সিরাজ সবকিছুকে ম্যানেজ করছিল। সিরাজের ইতিহাস ঘাটলে মনে হয় সে জন্মগত বা বৈশিষ্ঠগত ভাবে ক্রিমিণাল। সুন্দরি মেয়ে দেখলে মন তার আনচান করতো। নিয়মিত ছেলেদেরও বলাৎকার করেছে। প্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে ওসব গভরনিং বডির পিছনে ব্যয় করতো। একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আলেম নাম লাগিয়ে যে কাজগুলো সে করছিলো পুরাটাই মাথা ঘুরে যাওয়ার মত পরিস্থিতি। কঁচি কঁচি মেয়েদের ডেকে এনে একা একা রুমে তাদের স্পর্শকাতর জাগায় হাত দিতো। লজ্জায় শরমে কেউ মুখ খুলতোনা। নীচের তালা থেকে অফিস সরে নিয়ে উপরের তালায় নিরিবিলি স্থানে বসিয়েছে। যাতে গোপনে মেয়েদের সাথে কুকাজ করতে পারে। একজন অধ্যক্ষ হয়ে মেয়ে কি নাতিনের বয়সি ছাত্রীদের কুকাজের জন্য প্রস্তাব দিতো। তাও প্রতিষ্ঠানের অফিসে বসে। সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা নয় যেন সে বানিয়েছে তার লালসা কামনা বাসনার জায়গা। অধ্যক্ষের অফিস না, মিনি পতিতালয়। মেয়েরা জানতো যে অধ্যক্ষের ডাক আসা মানে শ্লীলতাহানি। তাই তারা যেতে চাইতোনা। চারিদিকে জানাজানি থাকলেও তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতোনা। সে পুরাটাই একটা গডফাদার সন্ত্রাসী। পিওন নূরে আলম একাধিকবার অফিসে গিয়ে দেখেছে যে তার বস কোন এক মেয়েকে বুকে টেনে আছেন। কোনদিন দেখেছে খারাপ ভংগিতে। কিন্তু কেউ ভয়ে মুখ খুলেনা। পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র বলে দিবে বলে মেয়েদের টোপ দিতো। এভাবে একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হতে পারে তা আমার আদৌ জানা ছিলনা। সে বস করেছে অত্র প্রতিষ্ঠানের ছাত্রলিগ শাখার সভাপতি শাহাদত হোসেন শামিম কেও। এভাবে তার সকল অপকর্ম জায়েয করার জন্য যা যা দরকার সবই সে করে রেখেছে। দুর্ভাগ্য যে সে নুসরাত জাহান রাফির মত একটি সাহসি মেয়ের গায়ে হাত দিয়েছিল। তার সাহসিকতার কারণেই আজ দেশবাসি জানতে পেরেছে এই ভয়ংকর সন্ত্রাসী সম্পর্ক। নুসরাত জীবন দিয়ে হলেও যুদ্ধ করেছে লম্পট সিরাজের বিরুদ্ধে। গোটা দেশ আজ তার জন্য কাঁদছে। সিরাজ এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা রেহাই পাবেনা ইনশাআল্লাহ। বেরিয়ে আসছে আরো খবর! বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির আরো খবর আসছে। মেয়েরা আজ ঘরে বাইরে বিপদের সম্মুখীন। অন্তত নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যদি আমরা শিক্ষারথীদের নিরাপদ জায়গা দিতে পারিনা তাহলে আমরা আসলেই ব্যর্থ। তাই আমার কিছু প্রস্তাবনা থাকবে: - শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিলেতের মত প্রত্যেককে ক্রিমিণাল রেকর্ড সনদপত্র লাগবে। আইডি কার্ডর সাথে অনলাইন একটা একাউন্ট যা সিকিউরিটি বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত হবে। - যে কোন শিক্ষারথীর জন্য হটলাইন খোলা রাখতে হবে যাতে তারা সেই সাহায্য লাইনে নিজের উপর আরোপিত বিপদ বা হয়রানির কথা বলতে পারে। - এইসব অভিযোগ তদন্তের জন্য সরকার শিক্ষা বিভাগের জন্য আলাদা নিরাপত্তা বিভাগ চালু করুক। অভিযোগ পাওয়ামাত্র যেন তদন্ত করে দেখা হয়। অনলাইন, ফোন লাইন সহ সকল প্রকার সার্ভীস যেন থাকে। - কোন দাঘি পুর্ব ক্রিমিণালরা যাতে কোন ক্রমেই শিক্ষক পদে নিয়োগ না পায় সে পথ রুদ্ধ করতে হবে। - শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাান থেকে গডফাদার সন্ত্রাসী মাদক সেবিদের বিতাড়িত করতে হবে। - বিচার বিভাগ স্বচ্ছ না হলে কোন কিছুতেই কাজ হবেনা। তাই বিচার হীনতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। - অধ্যক্ষ প্রধান শিক্ষক প্রিন্সিপ্যাল কেউই গোপন জাগায় অফিস করতে পারবেন না। খোলা পরিবেশে অফিস থাকতে হবে। - কোন ছাত্র ছাত্রীকে গোপনে অফিস কক্ষে ডাকা যাবেনা। একান্ত প্রয়োজন হলে অভিভাবক সহ অফিসে ডাকতে হবে। - আলিয়া মাদরাসা গুলোতে ইবতেদাইয়াহ‘র পর দাখিল থেকে ছেলে মেয়েদের একত্রে ক্লাস করা বন্ধ করতে হবে। মেয়েদের জন্য মহিলা টিচার ছেলেদের জন্য পুরুষ টিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। - আইনের কঠোর প্রয়োগই ক্রিমিণালদের সামাল দেওয়া সম্ভব। - দলমতের উর্ধে উঠে বিচার ও আইনের প্রয়োগ করতে পারলে যৌন নির্যাতন কমিয়ে আনা সম্ভব।

সম্পাদক : মোঃ ওলিউর রহমান খান প্রকাশক : মোঃ শামীম আহমেদ
ফোন : +44 07490598198 ই-মেইল : news@banglavashi.com
Address: 1 Stoneyard Lane, London E14 0BY, United Kingdom
  কপিরাইট © 2015-2017
banglavashi.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত
বাস্তবায়নে : Engineers IT