বৃহস্পতিবার ১ জানুয়ারি, ১৯৭০
সিলেটে অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে চলছে অভিযান
১৫ মে, ২০১৯



বাংলাভাষী ডেস্ক::
প্রবাসীবহুল অঞ্চল সিলেট। যে কোনো উপায়ে ইউরোপ যেতে মরিয়া এই অঞ্চলের তরুণদের একটি বড় অংশ। এই প্রবণতাকে কাজে লাগিয়ে সিলেটে যত্রতত্র গড়ে ওঠেছে ট্রাভেল এজেন্সি। এদের বেশিরভাগেরই গড়ে ওঠেছে সরকারী অনুমোদন ছাড়াই,  অবৈধভাবে।

এসব ট্র্র্যাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মানবপাচার, অবৈধভাবে বিদেশ যেতে প্রলুব্ধ করা, টাকা নিয়ে বিদেশ না পাঠানোসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাভেল এজেন্সিগুলো গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়ে দিয়েছে নিজেদের এজেন্ট। যারা দালাল নামে পরিচিত। এই দালালরাই বিদেশীগমনেচ্ছুদের ধরে আনে ট্রাভেল এজেন্সিতে। তারপর চলে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে বিদেশ পাঠানোর কার্যক্রম।

গত শুক্রবার লিবিয়া থেকে নৌকায় চড়ে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিশিয়া উপকূলে নৌকাডুবিতে মারা যান বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি। এদেন মধ্যে অনন্ত ২০ জন সিলেটের বাসিন্দা বলে এখন পর্যন্ত জানা গেছে। এই নিহতদের অনেকের পরিবারের সদস্যরাই জানিয়েছেন, ট্রাভেল এজেন্সির মোটা অংকের টাকার চুক্তিতে ঝুঁকি নিয়ে ইতালির পথে রওয়ানা দেন নিহতরা।

ভূমধ্যসাগরের ওই নৌকাডুবির পর ফের আলোচনায় এসেছে মানবপাচারের বিষয়টি। ট্রাভেল এজেন্সির নামে অবৈধ কার্যক্রমের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ-এর সিলেট শাখা সূত্রে জানা গেছে, ট্রাভেল এজেন্সি চালু করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধন করতে হয়। এমন নিবন্ধন আছে সিলেটের প্রায় দুইশ’ প্রতিষ্ঠানের। তবে নিবন্ধন ছাড়াই আরও পাঁচশ’ ট্রাভেল এজেন্সি আছে সিলেটে। অবৈধভাবে দিব্যি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এ প্রতিষ্ঠানগুলো।

২০১৮ সালে সিলেট নগরে এমন ৭৪টি অবৈধ এজেন্সির তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল আটাব। তবে এখন পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সিলেট সিটি করপোরেশনে ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে প্রায় ১৫০টি ট্রাভেল এজেন্সির। অথচ নগরীর ভেতরেই তিনশতাধিক ট্রাভেল এজেন্সি রয়েছে বলে জানিয়েছেন আটাব।

ভূমধ্যসাগরে নিহত সিলেটের ২০ বাসিন্দার মধ্যে ৪ জনের বাড়ি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায়। এই চারজনই সিলেট নগরীর ইয়াহইয়া ওভারসিজ নামের একটি এজেন্সির সাথে ইতালি যেতে ৮ লাখ টাকা চুক্তি করেছিলেন। ইতালি যাওয়া আর হয়নি তাদের। পথেমধ্যেই সলিল সমাধি ঘটে। তার আগে পোহাতে হয় আরও অবর্ননীয় নির্যাতন।

ভূমধ্যসাগরের ওই দুর্ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসনও। সিলেটে অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সি খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নিতে ৫টি টিম গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। গত সোম ও মঙ্গলবার বারনগরীতে অভিযানে নামে এসব টিম। অভিযানে ৩২ টি ট্রাভেলস এজেন্সিকে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে  প্রায় ছয় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
 
অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) সিলেট অঞ্চলের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার জলিল বলেন, ‘সিলেটে বৈধের চেয়ে অবৈধ ট্রাভেলস এজেন্সিই বেশি। এরা বিদেশ পাঠানোর নামে নানাভাবে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করছে। এসব মানবপাচারকারীদের কারণে সিলেটের সাধারণ মানুষ অনেককে সর্বস্ব হারাতে হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইউরোপ পাঠাতে গিয়ে প্রাণ দিতে হচ্ছে অনেককে।

তিনি বলেন, বর্তমানে অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সির এজেন্সির সংখ্যা পাঁচশ ছাড়িয়েছে। আমরা বিভিন্ন সময় অবৈধ এজেন্সি ও মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকার সংশ্লিষ্টদের তথ্য দিয়েছি।

আব্দুল জব্বার জলিল আরোও বলেন, সরকার কোনো যাচাই বাচাই না করেই মানবপাচারকারীদের লাইসেন্স দিচ্ছে। যার ফলে সরকারের বৈধতা নিয়ে মানবপাচার করছে কিছু অবৈধ ব্যবসায়ী। তাই লাইসেন্স প্রধানের ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষতে আরো সচেতন হতে হবে।

নৌকাডুবির ঘটনায় আলোচিত ইয়াহইয়া ওভারসিজের সরকারী নিবন্ধন ছিলো বলে জানান তিনি। তবে তাকে আটাবের সদস্যপদ দেওয়া হয়নি বলেও জানান জলিল।

সিলেট সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স শাখার তথ্যানুযায়ী, সিলেট নগরীতে বর্তমানে বৈধ ট্রাভেলস এজেন্সির সংখ্যা রয়েছে প্রায় ১৫০ টি ।

সিলেট সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স শাখার কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সিলেট নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের প্রায় দেড়শটির মতো ট্রাভেলস এজেন্সির লাইসেন্স রয়েছে। অনেকের লাইসেন্স করা আছে কিন্তু নবায়ন করা নেই। নবায়ন না করলে এটা স্বাভাবিকভাবেই বাতিল হয়ে যায়।’

এসব ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেন, বৈদিশক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন ২০১৩ অনুযায়ী প্রতি মাসেই অবৈধ ট্রাভেলস এজেন্সি ও মানবপাচারের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। এইমাসে একটি দুর্ঘটনার জন্য আরও গুরুত্ব দিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। এজন্য ৫টি টিম গঠন করে অবৈধ ট্রাভেলস এজেন্সিগুলো খোঁজে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মানবপাচারকারীদের ট্রাভেলস এজেন্সির লাইসেন্স প্রদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টা লাইসেন্স প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় বলতে পারবে।

সম্পাদক : মোঃ ওলিউর রহমান খান প্রকাশক : মোঃ শামীম আহমেদ
ফোন : +44 07490598198 ই-মেইল : news@banglavashi.com
Address: 1 Stoneyard Lane, London E14 0BY, United Kingdom
  কপিরাইট © 2015-2017
banglavashi.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত
বাস্তবায়নে : Engineers IT