বৃহস্পতিবার ১ জানুয়ারি, ১৯৭০
খালেদার আদালত স্থানান্তর বাতিলে রিটের শুনানি কাল
১০ জুন, ২০১৯



বাংলাভাষী ডেস্ক::সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়ার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর আদালত স্থানান্তরে আইন মন্ত্রণালয়ের করা গত ১২ মে’র প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার চেয়ে রিটের শুনানি জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন আদালত। 

সোমবার (১০ জুন) এ শুনানির দিন ধার্য থাকলেও এদিন শুনানিতে সাপ্লিমেন্টারি নথিপত্র দাখিল করার জন্য সময় চান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এরপর আদালত শুনানির জন্য আগামীকাল দিন ঠিক করেন।

হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মো: খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ শুনানি হয়।

আদালতে আজ খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন ব্যরিস্টার মওদুদ আহমদ, এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যরিস্টার কায়সার কামাল, মীর হেলাল উদ্দিন। 

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনালের মুরাদ রেজা। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

১২ মে’র ওই প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন দায়ের করার পর গত ২৮ মে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মো: খায়রুল আলমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ আংশিক শুনানি শেষে ১০ জুন রিটের পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন।

এর আগে গত ২৮ মে খালেদা জিয়ার রিটের ওপর আংশিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেছিলেন, ‘কেরানীগঞ্জ ঢাকা মহানগরের মধ্যে নয়। এছাড়া আইন অনুসারে পাবলিক ট্রায়ালের বিষয় আছে।’ 

গত ২৬ মে খালেদা জিয়ার পক্ষে এ সংক্রান্ত রিট আবেদন দায়ের করেন বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

রিট আবেদনে সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদবহির্ভূত পদক্ষেপ হওয়ায় এবং প্রচলিত ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৯ এর (১) ও (২) উপধারাবিরোধী হওয়ায় নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিচারে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিশেষ জজ আদালত-৯ কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারের ২ নং ভবনে স্থানান্তরে গত ১২ মে জারি করা গেজেটকে কেন অবৈধ এবং বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল চাওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই গেজেটের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

গত ২১ মে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার চেয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে একটি আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় এ রিটটি দায়ের করা হয় বলে তিনি জানান।

ওই আইনি নোটিশের বলা হয়, গত ১২ মে আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপন অনুসারে খালেদা জিয়ার মামলা শুনানির জন্য পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালত (বিশেষ জজ আদালত-৯) স্থানান্তর করে কেরানীগঞ্জে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘সেই প্রজ্ঞাপনকে খালেদা জিয়া ও আমরা বেআইনি বলে মনে করি। কারণ সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেকোনও বিচার হতে হবে উন্মুক্তভাবে। কারাগারের একটি কক্ষে উন্মুক্তভাবে বিচার হতে পারে না।’

উল্লেখ্য, গত ১৪ মে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে নবনির্মিত ২ নম্বর ভবনে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে প্রথমবারের মতো বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদকের করা গ্যাটকো মামলার শুনানি হয়।

এর আগে, ১২ মে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নিরাপত্তাজনিত কারণে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে নবনির্মিত ২ নম্বর ভবনের অস্থায়ী আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।

এই প্রজ্ঞাপন জারি করার পর ইতোমধ্যেই এই আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা তিনটি মামলার শুনানি হয়েছে। অন্য দুটি হল নাইকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা।

বেগম খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন থাকায় তাঁকে এখনও নবনির্মিত আদালতে হাজির করা হয়নি।

সম্পাদক : মোঃ ওলিউর রহমান খান প্রকাশক : মোঃ শামীম আহমেদ
ফোন : +44 07490598198 ই-মেইল : news@banglavashi.com
Address: 1 Stoneyard Lane, London E14 0BY, United Kingdom
  কপিরাইট © 2015-2017
banglavashi.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত
বাস্তবায়নে : Engineers IT