কবি বেগম সুফিয়া কামালের ১০৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ ডুডল দিয়েছে সার্চ ইঞ্জিন গুগল । বাংলাদেশ থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে গুগলে www.google.com গেলে কিংবা সরাসরি www.google.com.bd ঠিকানায় ঢুকলেই চোখে পড়বে বিশেষ ডুডলটি।

বুধবার দিবাগত রাত ১২টার পরেই সার্চ ইঞ্জিনটি এটি চালু করেছে, যা বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী থাকবে। ওই ডুডলে ক্লিক করলে সুফিয়া কামালকে নিয়ে গুগলে নানা অনুসন্ধান ফলাফল দেখাচ্ছে।

বিভিন্ন দেশের জাতীয় দিবস, বিখ্যাত ব্যক্তিদের জন্ম-মৃত্যু ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ঘটনাকে উৎযাপন করতে গুগল ডুডল প্রদর্শন করে। ২০১৩ সালের স্বাধীনতা দিবসে বাংলাদেশ নিয়ে প্রথম ডুডল প্রদর্শন করে গুগল। এ ছাড়া বাংলা নববর্ষ, খেলাধূলাসহ বিভিন্ন উপলক্ষে এমন উদ্যোগ নেয় গুগল কর্তৃপক্ষ।

গুগল তাদের ডুডল পেজে লিখেছে, কবি বেগম সুফিয়া কামালের ১০৮তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯১১ সালের এই দিনে বরিশালের শায়েস্তাবাদের নবাব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সুফিয়া কামাল ছিলেন একাধারে কবি, নারী আন্দোলনের অগ্রণী নেত্রী, ধর্মান্ধতা ও অসাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অকুতোভয় যোদ্ধা।

নবাব পরিবারের অবরোধবাসিনী হয়েও বেগম সুফিয়া কামাল দেশের ও পরিবারের স্বদেশি পরিমণ্ডলের অনুপ্রেরণায় প্রভাবিত হয়েছেন, সে সময়ের নারী আন্দোলনের কাজে যুক্ত হয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সাপ্তাহিক বেগম প্রকাশ করেন সুফিয়া কামালকে প্রধান সম্পাদিকা ও নূরজাহান বেগমকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদিকার দায়িত্ব দিয়ে।

১৯৪৭ থেকে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময়ে জাতীয় সব সংকটে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক-সামাজিক বিবেকের মতো দায়িত্ব পালন করেছেন সুফিয়া কামাল। সামরিক শাসনের গণবিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে, রাজবন্দীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে, রবীন্দ্রশতবর্ষ উদ্‌যাপনের দাবিতে ও দাঙ্গা প্রতিরোধে সুফিয়া কামাল সামাজিক গণমানুষের সর্বাধিনায়কের ভূমিকায় একাধারে ছায়ানট, কচিকাঁচার মেলা, পূর্ব পাকিস্তান মহিলা সংসদ প্রতিষ্ঠা ও নারী আন্দোলনের মহিলা সংগ্রাম পরিষদ পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।

জাতীয় স্বাধিকার আন্দোলনের মূলধারায় নারী আন্দোলনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন সুফিয়া কামাল। ১৯৬৮ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত পূর্ণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, জরুরি আইন প্রত্যাহার, দমননীতি বন্ধ, রাজবন্দীর মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে দেশব্যাপী চলতে থাকা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পাশাপাশি নারীসমাজের বৃহত্তর আন্দোলন অব্যাহত ধারায় সক্রিয় ছিল।

১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর ইহজীবন অবসানের আগ পর্যন্ত সচেতনভাবে নারীর মানবাধিকার অর্জনের দাবি জানিয়ে নারী আন্দোলনকে আর্থসামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক-বৈষম্য-অসাম্য-নির্যাতনের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে সোচ্চার থাকা এবং অসহায়, দরিদ্র, নির্যাতিত নারীর শিক্ষা-কর্মসংস্থান-ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করার পথনির্দেশ দিয়ে গেছেন তিনি।