বৃহস্পতিবার ১ জানুয়ারি, ১৯৭০
চামড়া মার্কেটেও কি দরবেশ-চক্রের বদনজর?
১৩ আগস্ট, ২০১৯

 

তাইসির মাহমুদ

 

বাংলাদেশের ক্বাওমী মাদ্রাসাগুলোর ব্যয় সংকুলানের একটি প্রধান উৎস হলো পশুর চামড়া । কুরবানী এলে মাদ্রাসার ছাত্ররা চামড়া সংগ্রহ করেন । এই চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়েই বছরের উল্লেখযোগ্য খরচ চলে । একটি চামড়া বিক্রি করে তাঁরা ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত পেয়ে থাকেন । কিন্তু খবরে প্রকাশ, এবার সেই ২৫০০ টাকার চামড়া নাকি ২৫ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে না । ফেসবুকে একটি ভিডিও দেখে যুগপৎ বিস্মিত হলাম । মৌলভীবাজারে ক'জন মাদ্রাসার ছাত্র কয়েকটি চামড়া বিক্রি করতে চেয়েছিলেন । পাইকারী ক্রেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা একেকটি চামড়ায় ১৫ টাকার বেশি দিতে পারবেন না। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে মৌলভীবাজার মনু নদীর উপর থেকে চামড়াগুলো নদীতে ছুড়ে ফেলছেন ছাত্ররা । বলছেন, ১৫ টাকায় বিক্রি করার চেয়ে নদীতে ফেলে দিয়ে নিজেদের ক্ষোভ সংবরণ করাই উত্তম বিস্ময়ের ব্যপার। চামড়া শিল্পে এই ধ্বংসলীলার রহস্য কী? শেয়ার মার্কেটের মতোই কি চামড়া মার্কেটেও দরবেশচক্রের বদনজর পড়েছে? নিঃসন্দেহে এটি ক্বাওমী মাদ্রাসাগুলোর জন্য একটি বিশাল ধাক্কা । কীভাবে চলবে দেশের শতশত ক্বাওমী মাদ্রাসা? মাঝে মধ্যে ক্বাওমী মাদ্রাসার বিরুদ্ধে যে বিষোদগার শুনি তাতে মনে হয়, চামড়ার মুল্য কমে যাওয়ায় একটি মহল ভীষণ খুশিই হয়েছেন । তারা হয়তো বলছেন, দেখি এবার ক্বাওমী-ওয়ালারা কোথায় যায়? একটা কথা বলতে চাই, যাঁরা ক্বাওমী মাদ্রাসাগুলোকে জঙ্গি তৈরির আস্তানা বলে স্লোগান দেন, যারা বলেন ক্বাওমী মাদ্রাসা বেকার তৈরির কারখানা। তাদের মৃতু্যর পর কিন্তু ওই ক্বাওমী শিক্ষায় শিক্ষিতরাই লাশটি গোসল দেন । আতর সুগন্ধি লাগান । কাফন পরান । লাশটি খাটিয়ায় তুলে কবরস্থানে নিয়ে যান। এরপর বিসমিল্লাহি-আ'লা-মিল্লাতি-রাসুলিল্লাহ পড়তে পড়তে ক্ববরে চিরনিদ্রায় শায়িত করেন। আর আপনাদের ইংলিশ শিক্ষিত ছেলেটি হাবাগোবার মতো আপনার লাশের পিছু পিছু হাঁটে। সে আপনার জন্য কিছুই করতে পারেনা। আর ক্বাওমী মাদ্রাসা যদি না থাকে। প্রতি বছর যদি আপনাদের দৃষ্টিতে 'বেকার' সেই হাজার আলেম সৃষ্টি না হন তাহলে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মসজিদে ইমামতি করবে কে? কে আপনার শিশুকে সকাল বেলা মক্তবে সুরা-ক্বেরাত পড়াবে? কারণ একমাত্র ক্বাওমী শিক্ষিতরাই তো কম বেতনে গ্রাম গঞ্জের মসজিদগুলোতে ইমামতি করে থাকেন । সরকারী মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিতরা ব্যাংক বীমানসহ অফিস আদালতে চাকরি করেন, নতুবা পাড়ি দেন বিদেশে!

সম্পাদক : মোঃ ওলিউর রহমান খান প্রকাশক : মোঃ শামীম আহমেদ
ফোন : +44 07490598198 ই-মেইল : news@banglavashi.com
Address: 1 Stoneyard Lane, London E14 0BY, United Kingdom
  কপিরাইট © 2015-2017
banglavashi.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত
বাস্তবায়নে : Engineers IT