বৃহস্পতিবার ১ জানুয়ারি, ১৯৭০
৭ মাসে বজ্রপাতে মৃত্যু ২৪৬
৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

বাংলাভাষী ডেস্ক ::

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত এই ৭ মাসে সারা দেশে বজ্রপাতে ২৪৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন ৯৭ জন। নিহতদের মধ্যে ৩০ জন নারী, ৬ জন শিশু, ৮ জন কিশোর-কিশোরী এবং ২০২ জনই রয়েছে পুরুষ।

রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) পুরানা পল্টনের রিসোর্সফুল পল্টন সিটিতে আয়োজিত চলতি বছর বজ্রপাতে হতাহতের পরিসংখ্যান নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম নামক একটি সংগঠন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ফেব্রুয়ারি মাসে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছেন ১১ জন। এর মধ্যে ১০ জন পুরুষ এবং ১ জন নারী রয়েছেন। ফেব্রুয়ারি মাসে আহত হয়েছেন ৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪, নারী ২ এবং কিশোর কিশোরী রয়েছে ২ জন।

মার্চ মাসে মৃত্যু হয়েছেন ৫ জনের। এর মধ্যে ৩ জন পুরুষ ও ২ জন শিশু রয়েছে। এ মাসে আহত হয়েছেন ৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ জন এবং শিশু রয়েছে ২ জন। 

এপ্রিল মাসে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছেন। এর মধ্যে ১৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ১ জন কিশোর-কিশোরী রয়েছে। এ মাসে আহত হয়েছেন ৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭ জন এবং নারী ১ জন।

মে মাসে নিহত হয়েছেন ৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪৮ জন, নারী ৮ জন, শিশু ১ জন এবং কিশোর-কিশোরী ৩ জন। এ মাসে ২৪ জন আহত হয়েছেন। তার মধ্যে পুরুষ ১৫ জন, নারী ৭ জন ও শিশু রয়েছে ২ জন।

জুন মাসে মৃত্যু হয়েছেন ৬৬ জনের। এর মধ্যে নারী ১১ জন, শিশু ৩ জন, কিশোর-কিশোরী ২ জন এবং ৫০ জন পুরুষ রয়েছেন। এ মাসে আহত হয়েছেন ১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১২ জন, নারী ২ জন, শিশু ৩ জন এবং কিশোর-কিশোরী ১ জন।

জুলাই মাসে মোট মৃত্যু হয়েছেন ৪৭ জনের। এর মধ্যে নারী ৪ জন এবং ৪৩ জনই পুরুষ। এ মাসে আহত হয়েছেন ২৫ জন। এর মধ্যে ২ জন নারী এবং ২৩ জনই পুরুষ রয়েছে।

এছাড়া আগস্ট মাসে বজ্রপাতে মোট ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছেন। এর মধ্যে ৪ জন নারী, ২ জন কিশোর-কিশোরী ও ৩১ জন পুরুষ রয়েছে। এছাড়া এ মাসে আহত হয়েছেন ১১ জন। এর মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী, ১ জন শিশু ও ১ জন কিশোর কিশোরী রয়েছে।

আয়োজকরা জানান, এ বছর সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সাতক্ষীরা জেলায়। এ জেলায় চলতি বছরে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছেন। এছাড়া, কিশোরগঞ্জ, পাবনা, সুনামগঞ্জ, কক্সবাজার, রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল জেলায় বজ্রপাতে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এরপর বেশি মৃত্যু হয়েছে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় মাছ ধরতে গিয়ে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে মাঠে গরু আনতে গিয়ে এবং টিন ও খড়ের ঘরে অবস্থান ও ঘুমোনোর সময় বজ্রাঘাতে বেশি মানুষ মারা গেছে। একই সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় অজ্ঞতাবসত লম্বা গাছের নিচে আশ্রয় নেয়ার সময় গাছে বজ্রপাত হওয়ায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের জাতীয় এবং আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকা, কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশনের স্ক্রল থেকে বজ্রপাতে হতাহতের সকল তথ্য সংগ্রহ করেছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নির্বাহী সদস্য মাসুদ রানার সঞ্চালনায় প্রতিবেদন পাঠ করেন সংগঠনের সেক্রেটারি রাশিম মোল্লা। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের গবেষণা সেল প্রাধান আব্দুল আলীম, সহ-সভাপতি সোহেল রানা, তিতুমীর কলেজ ইউনিট সদস্য হাসনাইন আহমেদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কলেজের সদস্য জুবাইর হুসাইন প্রমুখ। 

সম্পাদক : মোঃ ওলিউর রহমান খান প্রকাশক : মোঃ শামীম আহমেদ
ফোন : +44 07490598198 ই-মেইল : news@banglavashi.com
Address: 1 Stoneyard Lane, London E14 0BY, United Kingdom
  কপিরাইট © 2015-2017
banglavashi.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত
বাস্তবায়নে : Engineers IT