বৃহস্পতিবার ১ জানুয়ারি, ১৯৭০
পরিবেশ অধিদফেতরের মহাপরিচালককে হাইকোর্টে তলব
১৩ জানুয়ারি, ২০২০





বাংলাভাষী ডেস্ক ::ঢাকার বায়ুর মান ও জনবল বিষয়ে ব্যাখ্যা জানাতে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালককে তলব করেছেন হাইকোর্ট। বায়ুদূষণ রোধে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিষয়ক শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে আদালত বায়ু দূষণ রোধে কয়েক দফা নির্দেশনাও দিয়েছেন।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বায়ুদূষণ রোধে তাৎক্ষণিক ১২ দফা নির্দেশনা চেয়ে সম্পূরক আবেদন দেন রিট আবেদনকারীর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। এর শুনানি নিয়ে ওই সব নির্দেশনা দওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষে আইনজীবী সাঈদ আহমেদ ও উত্তরের পক্ষে আইনজীবী তৌফিক ইনাম শুনানিতে অংশ নেন।

পরে মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘আমি বলেছি- আমরা এখন (বায়ুদূষণ) সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছি। সে অনুসারে আরও কিছু নির্দেশনা দেওয়া দরকার। আমরা ১২ দফা নির্দেশনা চেয়েছিলাম। এগুলো দিলে বায়ুদূষণের মাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তার মধ্যে আদালত নয়টি দিয়েছেন।’

নির্দেশনাগুলোর মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো: 
১. ঢাকা শহরের মধ্যে যেসব ট্রাক বা অন্যান্য যানবাহনে বালু বা মাটি পরিবহন করা হয়, সেগুলো ঢেকে বহন করতে হবে। 

২. যেসব জায়গায় নির্মাণ কাজ চলে সেসব জায়গা ঢেকে রাখতে হবে। ঢাকার সড়কগুলোতে পানি ছিটানোর যে নির্দেশ ছিল, সে নির্দেশ অনুযায়ী যেসব জায়গায় এখনও পানি ছিটানো হচ্ছে না, সেসব এলাকায় পানি ছিটানোর যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩. যেসব উন্নয়ন প্রকল্প আছে সেগুলোর যথাযথ সেফটি মেজারস মেন্টেইন করে তাদের কাজগুলো পরিচালনা করতে হবে। যেসব গাড়ি কলো ধোঁয়া ছাড়ে সেগুলো বন্ধ করতে হবে।

৪. সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী রাস্তায় চলাচলকারী গাড়ির ইকোনোমিক লাইফ নির্ধারণ করতে হবে এবং যেসব গাড়ি পুরাতন হয়ে গেছে সেগুলো চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে। 

৫. যেসব ইটভাটা অবৈধভাবে চলছে, সেগুলো বন্ধ করে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

৬. পরিবেশ অধিদফতরের অনুমতি ছাড়া টায়ার পোড়ানো এবং ব্যাটারি রিসাইকিলিং একমাসের মধ্যে বন্ধ করতে হবে।

৭. মার্কেট ও দোকানের বর্জ্য প্যাকেট করে রাখতে এবং তা মার্কেট ও দোকান বন্ধের পরে সিটি করপোরেশনকে ওই বর্জ্য অপসারণ করতে হবে।

মনজিল মোরসেদ জানান, এসব নির্দেশনার পাশাপাশি ২ ফেব্রুয়ারি পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালককে হাইকোর্টে তলব করা হয়েছে এবং ১ মার্চের মধ্যে সব বিবাদীকে ওই ৯ দফা বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ২৬ নভেম্বর হাইকোর্টের একই বেঞ্চ এক আদেশে ঢাকা শহর ও আশপাশের এলাকায় বায়ুদূষণের কারণ ও দূষণ কার্যক্রম রোধ নীতিমালা প্রণয়নের জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দেন। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলার অবৈধ ইটভাটা ১৫ দিনের মধ্যে বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে বিবাদীদের আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়ে ৫ জানুয়ারি পরবর্তী দিন রাখেন আদালত। এর ধারাবাহিকতায় পরিবেশসচিব এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে গতকাল আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে শুনানি হয়।

‘ঢাকার বাতাসে নতুন বিপদ’ শিরোনামে গত বছরের ২১ জানুয়ারি ঢাকার একটি দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। এটি যুক্ত করে পরিবেশবাদী ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে গত ২৭ জানুয়ারি একটি রিট করা হয়। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২৮ জানুয়ারি হাইকোর্টের একই বেঞ্চ রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দেন। সেদিন আদালত বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর রাস্তাসহ নির্মাণাধীন জায়গা ঘিরে দেওয়া, ধুলামাখা স্থানে দুবেলা পানি ছিটানো ও দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে নির্দেশ দেন। এরপর রাজধানীতে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা চেয়ে এইচআরপিবি আরেকটি আবেদন করে। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৬ নভেম্বর আদেশ দেওয়া হয়। 

সম্পাদক : মোঃ ওলিউর রহমান খান প্রকাশক : মোঃ শামীম আহমেদ
ফোন : +44 07490598198 ই-মেইল : news@banglavashi.com
Address: 1 Stoneyard Lane, London E14 0BY, United Kingdom
  কপিরাইট © 2015-2017
banglavashi.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত
বাস্তবায়নে : Engineers IT