বৃহস্পতিবার ১ জানুয়ারি, ১৯৭০
বিশ্ব হালাল খাবারে ঝুঁকছে: কারণ করোনা 
১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

 

বাংলাভাষী ডেস্ক

 

পুরো বিশ্বের প্রায় আধিআধি খাদ্যপিপাসু মানুষ ইদানিং হালাল খাবারের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে।এর একমাত্র কারণ করোনা ভাইরাস। করোনা বিস্তারের অন্যতম কারণ হচ্ছে চীনাদের অখাদ্য-কুখাদ্য এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যা্ভ্যাস। কারণ এমন কোন প্রাণী নেই যা চীনাদের খাদ্য তালিকায় নেই। যেমন কুকুর, বিড়াল, শুকর, বাদুর, ইদুর, তেলাপোকা, বিছা, সাপ, ব্যাঙ, কাক ইত্যাদি সবই খায় ওরা।কিন্তু করোনার কারণে ইদানিং এসব অখাদ্য ওরা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। দেখা গেছে, চীন দেশে বসবাসরত উইঘর মুসলমানদের এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে দেখা যায়নি। কারণ ওরা সব সময়ই হালাল খায় এবং সিদ্ধ করে রান্না করে খায়। আর এটাই মুসলমানদের রীতি। এখন করোনার কারণে পুরো বিশ্ব মুসলমানদের মতো হালাল খেতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। চীনের উইঘুর মুসলিমরা করোনায় আক্রা’ন্ত না হওয়ার বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুসলিমরা অস্বা’ভাবিক খাদ্যাভ্যাসে অভ্য’স্ত নয় বলেই করোনায় আক্রা’ন্ত হচ্ছে না এ কথাটা ভুল নয়। তবে এটাও সত্য যে, চীনের হুবেই প্রদেশের বাইরে করোনা আক্রা’ন্তের সংখ্যা কম। এজন্যেও উইঘুররা হয়তো এখন পর্যন্ত সুস্থ আছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, সব খাবারে আত’ঙ্কি’ত হওয়াটা যেমন যৌ’ক্তিক কোনো কথা নয়। ঠিক তেমনি সর্বভু’কের মতো সব খাবার হাপু’স হুপু’স খাওয়াটাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। মোট কথা অস্ব’ভাবিক যেকোনো খাদ্যাভাসই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষ’তির কারণ। সেটা ভ’য়াব’হ কোনো ভাইরাসের ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, তেমনি অন্য যেকোনো ধরনের অসুখের জন্যও এ বিষয়টি মেনে চলা উচিৎ। ইদানিং কয়েকটি বাজার গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা ছড়ানোর পর গো’টা বিশ্বেই পশু পাখি খাওয়ার হার প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বিশ্বের প্রায় সব দেশের রেস্টুরেন্টেই কয়েক মাস আগেও চাহিদার শীর্ষে ছিল চাইনিজ খাবার। অথচ এখন মানুষ চাইনিজ খাবার থেকে মুখ ফি’রিয়ে নিচ্ছে। ভারতেও চাইনিজ খাবার ভী’তি জেঁ’কে বসেছে। এর বদলে রেস্টুরেন্টপ্রেমীরা বেছে নিচ্ছে নিজেদের দেশের ছোলা বাটোরা বা দোসা। অনেক রেস্টুরেন্ট আর ফুড শপ আবার প্রবেশ পথের সামনে বড় করে হালাল খাবারের বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতা আকৃ’ষ্টের চেষ্টা করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রত্যেকটা মানুষের জন্য যেটা দরকার সেটা হলো স্বাস্থ্যকর খাবার। সব প্রাণীর মাংস স্বাস্থ্যকর নয়। তাছাড়া মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিচ্ছ’ন্নতা বজায় রাখাটাও খুব জরুরি। মাংসটা ঠিকভাবে কাটা হলো কিনা, অস্বা’স্থ্যকর অংশগুলো ফে’লে দেওয়া হলো কিনা সেটা নিশ্চিত হয়েই খাবার রান্না করা উচিৎ। রান্নার ক্ষেত্রে খাবারটা সম্পূর্ণভাবে সিদ্ধ হওয়াটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আধাসিদ্ধ বা কাঁচা খাবারে জীবানু থেকে যায়। এই বিষয়গুলোই হালাল খাবার আর স্বাস্থ্যকর খাবারের মধ্যে একটা যোগসূত্র তৈরি করেছে। কারণ মুসলমানরা মাছ, মাংশ, সবজি, চাল ইত্যাদি কয়েকবার ধোয়ার পর খুব ভাল করে বিভিন্ন মসলা দিয়ে অনেকক্ষণ ধরে সিদ্ধ করে খায়। এতে জীবানু মরে যায়।  আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, অস্বাভাবিক যত খাওয়া দাওয়া সেখান থেকেই ভয়াবহ সব অসুখগুলো ছড়ায়। চীনের উহান শহরের একটি বন্য ও সামুদ্রিক প্রানীর বাজার থেকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। করোনার আঁ’তুড়ঘর বলে পরিচিত সেই বাজারটি করোনা ম’হামা’রি আকা’র ধা’রণ করার আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে চীনের প্রায় সব প্রদেশেই অস্বা’স্থ্যকর পশু পাখি খাওয়াও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বের অন্য দেশগুলোরও একই অবস্থা। সুতরাং বিশ্বের মানুষদেরকে করোনা থেকে বাঁচতে হলে এখন থেকে মুসলমানদের মতো রান্না করে সবকিছু খাওয়া উচিত। 

সম্পাদক : মোঃ ওলিউর রহমান খান প্রকাশক : মোঃ শামীম আহমেদ
ফোন : +44 07490598198 ই-মেইল : news@banglavashi.com
Address: 1 Stoneyard Lane, London E14 0BY, United Kingdom
  কপিরাইট © 2015-2017
banglavashi.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত
বাস্তবায়নে : Engineers IT