বৃহস্পতিবার ১ জানুয়ারি, ১৯৭০
করোনা ভাইরাস এর বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের করণীয়।।
২৪ মার্চ, ২০২০

 

নুূরজাহান শিল্পী

 

সারা পৃথিবী জুড়ে করোনাভাইরাস আতঙ্কে। বাংলাদেশে প্রতিদিন বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। টকশো ,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় শুধু কথার ফুলঝুড়ি। করুনা সংক্রমণ প্রতিরোধে যা করতেই হবে আমাদের। ইতালি যে ভুল করেছে আমরা যেন সে ভুল না করি। ইতালিতে এই মুহূর্তে প্রতি দুই মিনিটে একজন করে মারা যাচ্ছেন। গণকবরের ও জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। উফ কি হৃদয়বিদারক। ইতালির মতো উন্নত দেশে যদি এই অবস্থা তাহলে আমাদের বাংলাদেশে কেমন অবস্থা হতে পারে ভাবলেই শিউরে উঠি। এই রোগ প্রতিরোধে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।কিন্তু ভ্যাকসিন তৈরিতে সময় লাগবে ১ - ২বছর। তাই এই মুহূর্তে আমরাই আমাদের বাঁচাতে হবে। শুধু সরকারের উপর নির্ভরশীল না হয়ে আমরা নিজেদের উপর নিজেরা নির্ভরশীল হতে হবে। কিছু কাজ আছে যা সরকারের উপর নির্ভরশীল না হয় আমরা নিজেরাই করতে পারি। কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নিজের ঝুঁকি যেমন কমে অন্যরা ঝুঁকি থেকে বাঁচে। যেমন হাত মেলানো, সামাজিকতা পরিহার করা, টাকা লেনদেন বন্ধ রাখা, অফিসে আপাতত না যাওয়া, জীবাণুমুক্ত থাকা, চলাচলে নিয়ন্ত্রণ, খরচ কমানো, চিকিৎসা নেওয়া ,কেনাকাটা থেকে বিরত থাকা। নাকে মুখে চোখে হাত না দেই। আমরা যারা মুসলিম পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে অজুর মাধ্যমে এই ভাইরাসকে বিদায় দিতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ। এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখা। ফ্লু মনে হলে বা অসুস্থ বোধ করলে ১৪ দিন একঘরে হয়ে থাকি।এটা আমাদের জন্য নিরাপদ এবং আমাদের ঘরের মানুষদের জন্য নিরাপদ। বিদেশ ফেরত কারো এই লক্ষণ দেখা দিলে তাকে আলাদা করে রাখা হোক ১৪ দিন ২৮ দিন যতদিন সে সম্পূর্ণ সুস্থ না হয়। সরকারের দায়িত্ব বেশি তাই বলে সবকিছু সরকারের উপর ছেড়ে দিয়ে বসে থাকলে হবেনা ।এই বিপর্যয় ঠেকানো যাবে না। আমাদের দায়িত্বটুকু আমরা পালন করতে হবে। নিজে নিরাপদ থাকি, পাশের জন কে নিরাপদ রাখি। সময় এসেছে আমাদের মানবতা পরীক্ষার ।আমাদের ঈমানের পরীক্ষার। করোণা নামক অদৃশ্য শত্রু মোকাবেলা করার। আমরা ঐক্যবদ্ধ হলে সবকিছুই সম্ভব। আমাদের খাবারেও পরিবর্তন আনতে হবে। ৭০% রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা রাখে ভিটামিন সি। লেবু বাংলাদেশে খুবই সহজলভ্য।আমরা প্রতিদিন অন্তত উষ্ণ গরম পানিতে তিন গ্লাস লেবুর শরবত যদি পান করি কিংবা লেবুর রস তাহলে করোনাভাইরাস আমাদের শরীরে আক্রমণ করতে পারবেনা। প্রতি ১৫ মিনিট অন্ত উষ্ণ গরম পানি পান করলে আমাদের স্বরনালী থেকে ফুসফুসে ভাইরাস ছড়াতে পারে না। আমি একা কেন করব? সবাই মানছে না এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসুন। আপনার মাধ্যমে যদি একজন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে আপনি সেটার জন্য দায়ী। আপনার পাশে আপনার বাসায় বয়স্ক মানুষ যারা তাদের প্রতি সচেতন হোন। বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে যাদের হার্টের অসুখ, কিডনি সমস্যা, ক্যান্সার ,হাইপ্রেসার ,আজমা শ্বাসকষ্ট, এলার্জি ,হজমে গুরুতর সমস্যা।তারা করোনাভাইরাস এর সংস্পর্শে এলে তাদের মৃত্যুর হার কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। তাই আপনার একটু সতর্কতায় বাঁচতে পারবে আপনার আপনজনেরা। আতঙ্ক নয়,সচেতনতা ছড়ান। হোয়াটসঅ্যাপ ভাইবার ফেসবুকের মাধ্যমে।পরিসংখ্যান বলছে বাংলাদেশসহ এই উপমহাদেশে দুই সপ্তাহ চার সপ্তাহ যদি আমরা গৃহবন্দী হয়ে থাকি তাহলে আমাদের অবস্থা ইতালি কিংবা ফ্রান্সের মতো হবে না।ইতালি ইরান ফ্রান্স অনেক দেরিতে পদক্ষেপ নিয়েছে আমাদের হাতে এখনো সময় আছে। সৌদি আরব কারফিউ জারি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণের করণীয়। শ্রমজীবী মানুষদেরকে করোনার সচেতনতার জন্য মাইকিং করে জানিয়ে দেয়া। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের আর্থিক সহযোগিতা করে সচেতন করা। যাতে কোন প্রকার অভাবের কারণে তারা রাস্তায় না আসে। বিভিন্ন সেক্টরের মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে পড়ছে। হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ দিন আনে দিন খায় এমন পরিবারের মানুষেরা বেশি বিপাকে।তিনবেলা পেটের ভাত যোগান কিভাবে সেই চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন অসহায় মানুষগুলো।আমাদের এইসব অসহায় মানুষগুলোর পাশে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী দাঁড়াতে হবে। সরকার কি করছে সরকার কি দিচ্ছে? শুধু সরকারের দিকে না তাকিয়ে আমরা আমাদের প্রতিবেশী থেকেই আমাদের কর্তব্য শুরু করতে হবে।সরকার স্কুল কলেজ মসজিদ মাদ্রাসা অনেক কাজের জায়গা বন্ধ করে দিয়েছে।আমরা যারা বিত্তবান কিংবা মোটামুটি সচ্ছল অবস্থা আগামী ছয় মাস কিংবা এক বছরের খাদ্য স্টক না করে আমাদের আশেপাশের মানুষগুলোর কথা ভাবতে হবে।কেউ নিজের বাড়ি ভাড়া মওকুফ করে দিচ্ছেন।কেউ বা এক মাসের খাবার তুলে দিচ্ছেন অতিদরিদ্র্য পরিবারের মধ্যে। কেউবা দরিদ্র পরিবারের মানুষের হাত ধোয়ার ব্যবস্থা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাইকিং করে সচেতন করে তোলছেন। আমরা আমাদের নিজেদের জায়গা থেকে সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাই।এক মাসের চাল-ডাল-তেল-লবণ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস যদি তুলে দেই তাহলে তারা ঘরের বাইরে আসবে না। প্রতিবন্ধীরা আরো বিপদে।চৌরাস্তায় বসে যারা বাদাম কিংবা চানাচুর পান বিক্রি করে সংসার চালান তারা আজ কোথায় যাবেন? জনগণ হিসাবে মানুষ হিসাবে আমাদের কর্তব্য তাদের পাশে দাঁড়ানো।প্রতিটি জেলার প্রতিটি শহর এবং গ্রামের যারা বিত্তশালী যারা সচ্ছল তারা এভাবে দরিদ্র অতি দরিদ্র মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন তারা। বাংলাদেশ সবকিছুর ঘাটতি ডাক্তারের ppe পর্যন্ত নেই। করোনায় আক্রান্ত রোগের শনাক্তকরণের যন্ত্র আমাদের নেই।এমতাবস্থায় আমরা যদি নিজেরা নিজেদের সচেতন না করে তুলি মরণ আমাদের দরজায় দাঁড়িয়ে। বাতাস বিষাক্ত। প্রতিটি জেলায় প্রতিটি শহরে প্রতিটি গ্রামে একটি করে কোয়ারান্টাইন এর ব্যবস্থা করা হোক। করোনাভাইরাস একটি আশীর্বাদ স্বরূপ এসেছে। আমাদের মানবতা ফিরিয়ে এনেছে ।এই কঠিন সময়ে কার পাশে কতটুকু দাঁড়াতে পারছি কতটুকু সহমর্মিতা দেখাতে পারছি । আমাদেরনৈতিকতা ফিরিয়ে এনেছে। আমাদের ঈমানী পরীক্ষা মজবুত করার সময় এসেছে। বলো কি তোমার ক্ষতি? জীবনের অথৈই নদী পার হয় তোমাকে ধরে দুর্বল মানুষ যদি। মানুষ যদি সে মানুষ না হয় দানব কখনো হয় না মানুষ। দানব যদি কখনো হয়ে যায় মানুষ তুমি কি লজ্জা পাবে না। একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারেনা মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য আমরা এটা প্রমাণ করি। লেখকঃ কবি, কলামিস্ট, নুরজাহান শিল্পী, কেন্ট, ইউ কে ২৩.০৩.২০২০

সম্পাদক : মোঃ ওলিউর রহমান খান প্রকাশক : মোঃ শামীম আহমেদ
ফোন : +44 07490598198 ই-মেইল : news@banglavashi.com
Address: 1 Stoneyard Lane, London E14 0BY, United Kingdom
  কপিরাইট © 2015-2017
banglavashi.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত
বাস্তবায়নে : Engineers IT