বৃহস্পতিবার ১ জানুয়ারি, ১৯৭০
ফিরে দেখা ‘সপ্তর্ষি’
২২ মে, ২০২০

আব্দুছ ছালাম চৌধুরী :: বাংলাভাষী অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক জনাব অলিউর রহমান খান সম্পাদিত কবিতাগ্রন্থ সপ্তর্ষি’ বইটি হাতে পেয়ে মুগ্ধ হলাম। অশেষ কৃতজ্ঞতা কবি,সাংবাদিক,গল্পকার এবং একজন সৃজনশীল মানুষ অলিউর রহমান ভাইয়ের প্রতি, তাঁর মহতি উদ্যোগে এমন একটি কাব্যগ্রন্থের প্রকাশনা সর্ব মহলে প্রশংসিত হবে । এটি আমার দৃঢ় বিশ্বাস। সপ্তর্ষী মন্ডলের কথা – সম্পাদক শুরুতেই লিখছেন, মানুষ আর কবিতা অবিচ্ছেদ্য। আরজ গোজার, পর সমাচার এমন কিছুর ধারে কাছে না গিয়ে , অসাধারণ সূচনা । এই প্রজন্মের সাতজন কবির লেখা নিয়ে অর্থ্যাৎ সাতটি নক্ষত্রকে একই মলাটের ভিতর ধারণ করে সপ্তর্ষি'র প্রকাশনা একটি সফল প্রকাশনা। যেহেতু এই সাতজন কবির মধ্যে দুয়েকজনের লেখা আগে পড়েছি । সপ্তর্ষি'র মাধ্যমে বাকিদের লেখা পড়ার সুযোগ পেলাম এর জন্য আবারও কৃতজ্ঞতা গ্রন্থের সম্পাদক অলিউর রহমান খানের প্রতি। নিপুন সম্পাদনা, আর পরিপাটি প্রকাশনা সবার নজর কাড়বে। আমার একটি অভ্যাস; ভাল মন্দ যাই লাগুক শেষ পর্যন্ত যাই। সপ্তর্ষি’ হলো মনোমুগ্ধকর। ----আমি শেষের কবিতা থেকে আলোচনা করবো,কারণ শুরু থেকে শেষে আসায় শেষটাকেই তরতাজা মনে হলো। ভালোবাসার কাব্যশৈলী পনেরোটি ভাগে ছন্দ তাল এবং অন্তরায় নিখুত ভাবে তুলে ধরেছেন কবি শাহানা শৈলী । এই লেখাসহ তার সবক’টি লেখাই অত্যন্ত চমৎকার। কবিতায় আমার নিত্য অবগাহন; তাই সাতজন কবির জন্য আমার কবিতার নৈবদ্য “মুক্ত বিহঙ্গে পথ চলা আর সোনালি আকাশ আমার ভালোবাসা, নিশিতার বুক চিরে জেগে উঠা চাঁদের কিরণ কবির ভালোবাসা” সপ্তর্ষি'র কাব্যমালা নিয়ে আমার ভাবনা --- কবি শাহানা শৈলীকে রাত, জাগায়ো না প্রিয় (গীতিকাব্য) আব্দুছ ছালাম চৌধুরী আমায় জাগায়ে রেখো না প্রিয় লিখিতে কবিতা গান, তোমার ঐ মুখপানে,আছে ……. বৃষ্টির কলতান- এ রাত ….জাগায়ো না প্রিয়।। আমি রাতের আকাশে তোমাকে খুঁজি তারার কিরণ মাঝে, তুমি যে আমার সৃষ্টির সুখ …….সাজো নতুন সাঝে- এ রাত…. জাগায়ো না প্রিয়।। আমার গোধূলি বেলা, রবির খেলা বাঁশির সুরে সুরে, মাঠে ঘাটে হেঁটে ছুটে চলি …….বসি নদীর তীরে- এ রাত ….. জাগায়ো না প্রিয়।। আমি স্বপ্ন দেখি,ঢেউয়ের তালে শুনি মাঝির গান, ভয় নেই আজ গোরোর পথে কাঁপেনা আর প্রাণ- এ রাত…..জাগায়ো না প্রিয়।। "বিষন্নতা কেটে যাবে শিশমহলে এলে, নষ্টালজিক আর উম্মুক্ত হবে না" কবি আয়েশা মুন্নি'কে ভরা গাঙে (গীতিকাব্য) -আব্দুছ ছালাম চৌধুরী কেনো সে আসিলো আজই .........ভরা গাঙে পরনে শাড়ি, পায়ে নূপুর,হাতে মেহেদী রঙে। ......... কেনো সে আসিলো আজই ।। কেনো সে আসিলো আজই দোলায়ে কানের দুল, দখিনা বাতাসে উড়ছে দেখি ......... কৃষ্ণ কাজল চুল। কেনো সে আসিলো আজই বকুলের মালা গেঁথে, আঁধার আকাশ রাঙিয়ে দিলো ......... পূর্ণিমা চাঁদ রাতে । কেনো সে আসিলো আজই আমার ভাঙা নায়, বৈঠা ছাড়া কেমনে চলি ......... ঐ না উজান গাঁয়। কেনো সে আসিলো আজই,রাঙায়ে দুই চরণ মৃদুভাষী ঐ অনুরাধার, বাঁকা দুই নয়ন- ......... কেনো সে আসিলো আজই। "এমন সুখ ভাব কয়জনার থাকে মানবতার ভাবনা দেখে যাও ফাঁকে " কবি ফাহমিদা ইয়াসমিন'কে মনে পড়ে না (গীতিকাব্য) -আব্দুছ ছালাম চৌধুরী মনে পড়ে না,তোমাকে আর মনে পড়ে না, ঘুম আসে,ঘুম যায়,তবু --------ঘুম বাঁধে না, মনে পড়ে না, ----------তোমাকে মোর মনে পড়ে না। কেনো রয়ে যাই পিপাসিত,এই আমি তুমি বুঝো না, টিপটিপ মেঘো জলে-----তৃষ্ণা মিটে না, তুমি নেই, কিছু নেই,নেই আর কোনো ভাবনা, মনে পড়ে না, ---------তোমাকে মোর মনে পড়ে না। কে এই উদাসী পূরবী হাওয়া,আমি তারে চিনি না, তার ছাড়া সুখোষ্ণতা,আর---গায়ে মাখি না, আমি যার হৃদ্যতায়,সে কেনো আসেনা, মনে পড়ে না, ----------তোমাকে মোর মনে পড়ে না। যদি সে আমার প্রিয়া হয়,আসবে তারে ছাড়া মানি না, তার বুকে মাথা রেখে,ঘুমাবো---আর কিছু চাই না, হয়তোবা খাটে,নতুবা ধুলোয়,শিক্ত বেদনা, মনে পড়ে না,তোমাকে মোর মনে পড়ে না। "সদাহাস্যজ্বল একজন কবির কবিতা কারো মায়াকান্নায় থেমে যাবে না" কবি শাহারা খানকে গল্পের রাণী -আব্দুছ ছালাম চৌধুরী গল্পের রাণী সে যে শত কবির প্রাণ, বহুমুখী প্রতিভা তাহার ……. নাম শাহারা খান। রোজ রোজ গল্প লিখেন লিখেন কবিতা গান, আমাদের এই কলম সৈনিকের ……. অনেক,অনেক অবদান। আঞ্চলিক ভাষায় লিখতে পারেন কথোপকথনেও পাকা, কলম যেনো ছুটতেই আছে ……. যেনো,ঘুরছে গাড়ির চাকা। সারা রাত্রি লেখা পড়ায় মগ্ন থাকেন যিনি, অনেকেই থাকে ডাকতে শুনি ……. মোদের,প্রিয় দিদিমণি। ঠোঁটে মুখে হাসির ফোয়ারা থাকেন টেমস তীরে, রাণীর দেশের গল্পের রাণীর ……. শব্দের ফুল ঝরে। সবাই তাকে ভালো বেসে ডেকে বসেন নানি, আমি হলাম গল্পের পাগল, তাই ……. ডাকি গল্পের রাণী। "পিছুটান বলে কিছু নেই,সাহসীদের একাকী রাত, অন্ধকার থেমে দেয়" কবি মরিয়ম চৌধুরীকে জীবনের গল্প আব্দুছ ছালাম চৌধুরী এ ভাবেই জীবন সাজে, কিছু গল্পের বাহানায়, এতটুকু পথ দেখালেই মানুষ চাঁদে চলে যায়। আমরা ফুলকে ভালোবাসি আমরা কবিকে ভালোবাসি আমরা লিখি, আমরা শিখি চেতনার মহাকাশের অমীমাংসিত উষ্ণতার কথা, আমরা খুঁজি প্রাণের স্পন্দন,কেনো জলবায়ুর অপূর্ণতা। আমাদের স্বপ্ন,শব্দের চেয়ে দ্রুত,পাড়ি দেবো, ইতিহাসের পাতায় কে আগে নাম লেখাবো। কে হবো সেই মহামানব কে আজ থাকিবো সরব কবি ও কবিতার মতো নরম আচরণে ব্রত, বৈপরীত্যের আত্মতুষ্টিতে কখনো হই না নত। জীবনের পরিভাষায় পরিভ্রমণ, ভুগর্ভের ভেতর, মহাপ্লাবনে ধুয়েমুছে বেঁচে থাকা কালো পাথর। উপাদানে মত্ত কিছু ঋষিবর, দাঁতের গোড়ালিতে চিবাতে সুখকর প্রশান্তির উচ্ছ্বাসে হত-বিহবল,যদি আরেকটু, এভাবেই জীবন যুদ্ধ অসমাপ্তির বোধটুকু। "যেভাবে সবুজ বাতি,জায়গা করে নেয় মনে, শনি আতঙ্ক মুছে,যাও,দিগ্বিদিক জ্ঞান অর্জনে" কবি খায়রুন্নেসা রিমিকে পড়া হলো না -আব্দুছ ছালাম চৌধুরী তার আর হলো না পড়া আমার লেখা কবিতা, আমি লিখেছিলাম তার প্রতি,কেনো সে দৃষ্টিকটু রাখলো কেনো সে বললো না সত্য কথা। তার আর হলো না পড়া আমার ইস্টগ্রামের চিঠি, আমি লিখেছিলাম সাত সমুদ্র তেরো নদী পাড়ি দেবার গল্প কেমন করে মনে পড়ে আমার দেশের মাটি। তার আর হলো না পড়া আমার আঁখি ভরা জল, আমি লিখেছিলাম বসন্তের কথা,জোছনা রাতের কথা কেমন করে নামছে দেখো,আষাঢ়ী প্রেমের ঢল। তার আর হলো না পড়া আমার মুখের হাসি , আমি লিখেছিলাম আঙিনার ফুলের কথা কেমন করে গোলাপ,চামেলিকে এত্তো ভালোবাসি। "ভাবনার আকাশে আলোর কিরণে তুমি স্ফুরিত করো, সাগরের কলতানে,পুষ্পের ঘ্রাণে ঘ্রাণে জীবনের আল্পনা আঁকড়ে ধরো" কবি নুরজাহান শিল্পীকে সপ্তর্ষি -আব্দুছ ছালাম চৌধুরী চোখ বুলানো হলো না ঐ সপ্তর্ষির আকাশে, ক্ষুরধার স্পৃহা রয়ে গেলো -----নক্ষত্র পুঞ্জবিশেষে। তবে কান পেতে শুনেছি, কবি এবং কাব্যের গুণকীর্তন, শুনেছি সুপ্ত বাসনার কথা ……. দেখেছি সপ্তর্ষির সেতু বন্ধন। সপ্তর্ষি, একটি স্বপ্নতে সাতটি তারা, যেনো সপ্তম আকাশ থেকে নেমে আসা ……. সপ্তর্ষি প্রাণে ভরা। সপ্তর্ষি’ বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে পৌঁছুক সকলেই পড়ে কাব্যের শ্রুতি মধুরতায় নিজেকে বিলিয়ে দিন, এই কামনা করছি। 

সম্পাদক : মোঃ ওলিউর রহমান খান প্রকাশক : মোঃ শামীম আহমেদ
ফোন : +44 07490598198 ই-মেইল : news@banglavashi.com
Address: 1 Stoneyard Lane, London E14 0BY, United Kingdom
  কপিরাইট © 2015-2017
banglavashi.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত
বাস্তবায়নে : Engineers IT