বৃহস্পতিবার ১ জানুয়ারি, ১৯৭০
রিপোর্ট আসার আগেই সুস্থ হয়ে ওঠছেন রোগীরা
২৯ জুন, ২০২০

নিজস্ব প্রতিদেবক :: কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন সিলেট মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা। করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার জন্য ৮ জুন তিনি নমুনা জমা দেন। ১৩ দিন পর ২১ জুন আসা রিপোর্টে জানা যায়, তার করোনা পজিটিভ। ততোদিনে তার জ্বর সেরে গেছে। সুস্থ হয়ে গেছেন পুরোপুরি।
করোনা শনাক্তের পর ওই কর্মকর্তা বলেন, জ্বর আসার পর খুব চিন্তায় ছিলাম। এখন তো পুরো সুস্থ হয়ে গেছি। কোয়ারেন্টিনে থাকার ১৪ দিনও প্রায় শেষ। এখন আর রিপোর্ট এসে কী লাভ?
পরিবারের একজনের করোনা শনাক্ত হওয়ার পর দক্ষিণ সুরমার একই পরিবারের ৪ সদস্য নমুনা জমা দিয়েছিলেন গত ২০ জুন। ৯ দিন হতে চলছে। এখন পর্যন্ত রিপোর্ট পাননি তারা। করোনা শনাক্তের বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়ায় প্রাত্যহিক প্রয়োজনে তাদের কয়েকজনকে বাইরেও যাওয়া আসা করতে হচ্ছে।
কেবল এই কয়েকজনই নয়, এমন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সিলেটে করোনা শনাক্তের জন্য নমুনা জমা দেওয়া প্রায় সকলকেই। রিপোর্টের জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয় তাদের। রিপোর্ট আসার আগে তাদের বেশিরভাগই সুস্থ হয়ে ওঠছেন। আবার দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেও রিপোর্ট না পেয়ে বাইরেও ঘোরাফেরা করছেন অনেকে। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়ছে। গত ৩১ মে করোনা শনাক্তের জন্য নমুনা জমা দিয়েছিলেন বিশ্বনাথের মাছুখালি এলাকার এক স্বাস্থ্যকর্মী। মাছুখালি বাজারে তার একটি ফার্মেসি রয়েছে। ৬/৭ দিন অপেক্ষার পর রিপোর্ট না আসায় তিনি ফার্মেসিতে যাওয়া শুরু করেন। ৮ জুন রাতে যখন জানতে পারেন তার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে তখনও তিনি ফার্মেসিতে বসা ছিলেন। এই কয়দিনে অসংখ্য মানুষের সাথে।
তবে এই সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে হবিগঞ্জের রোববারের ঘটনা। রোববার ঢাকার ল্যাব থেকে আসা রিপোর্টে ১৭ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। এদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিলো ১৯দিন আগে, ৯ জুন। নমুনা দেওয়ার ১৯ দিন পর করোনা আক্রান্তের তথ্য জানতে পারলেন রোগীরা। ততদিনে এদের প্রায় সকলেই সুস্থ হয়ে নিজ নিজ কাজে ফিরে গেছেন।
১৯ দিন পরও এমনি এমনি রিপোর্ট আসেনি। হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা একেএম মোস্তাফিজুর রহমান জানালেন, ঢাকায় বারবার ফোন করে তাগাদা দিয়ে এই রিপোর্টগুলো আনাতে হয়েছে।
সিভিল সার্জন বলেন, ১০ জুন থেকে যে নমুনাগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে সেসবের রিপোর্ট এখনও আসেনি। এখনও ঢাকার ল্যাবে হবিগঞ্জের প্রায় ১৫শ' নমুনা জমা পড়ে আছে।
কেন এত দেরি হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সারাদেশেই এই সমস্যা হচ্ছে। নমুনা সংগ্রহ বেড়ে গেছে। কিন্তু দ্রুত পরীক্ষা করার সক্ষমতা এখনো আমাদের দেশে অর্জিত হয়নি। তাই দেরি হচ্ছে। নমুনা পরীক্ষার জন্য সিলেটে আরও দুটি ল্যাব স্থাপনের কথা অনেকদিন থেকেই শোনা যাচ্ছে। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও হবিগঞ্জের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তারাও।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রগতি কতদূর? এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান রোববার বলেন, সিলেটে আরও দুটি ল্যাব চালু করার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি এখনো মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন আছে। উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে থেকে নির্দেশনা পেলেই এ ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সিলেট বিভাগের মধ্যে এখন পর্যন্ত দুটি ল্যাবেই নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাব। এদের মধ্যে ওসমানীতে সিলেট জেলার ও শাবিতে সুনামগঞ্জ জেলা থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা করা হয়। বিভাগের অন্য দুই জেলা হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার থেকে সংগৃহীত নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় ঢাকায়। আবার ওসমানীর ল্যাবে অনেকগুলো নমুনা জমা হয়ে গেলেও ঢাকায় পাঠানো হয়। মূলত ঢাকায় পাঠানো নমুনাগুলোর রিপোর্টে আসতে সবচেয়ে দেরি হয়।
এ প্রসঙ্গে ওসমানী মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও সিলেট করোনা আইসোলেশন সেন্টারের সভাপতি অধ্যাপক ডা. শিশির চক্রবর্তী বলেন, ওসমানীতে এখন নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আগে দিনে দুটি সার্কেলে ১৮৮ টি নমুনা পরীক্ষা করা হতো। এখন প্রতিদিন ৪টি সার্কেলে চারশ'র কাছাকাছি নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফলে এখানে নমুনা জট অনেকটা কমেছে। আগের চাইতে দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ারও চেষ্টা চলছে।

সম্পাদক : মোঃ ওলিউর রহমান খান প্রকাশক : মোঃ শামীম আহমেদ
ফোন : +44 07490598198 ই-মেইল : news@banglavashi.com
Address: 1 Stoneyard Lane, London E14 0BY, United Kingdom
  কপিরাইট © 2015-2017
banglavashi.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত
বাস্তবায়নে : Engineers IT