লীলাবতীর সূর্যাস্ত আর সূর্যোদয়

লীলাবতীর সূর্যাস্ত আর সূর্যোদয়

হাসান ফরিদ

লীলাবতী এখন ইরাবতীর তীরে--সখীবেষ্টিত ঐশ্বর্য রথে সূর্যস্নানে রত;

অগনিত রাজাধিরাজ ব্রাহ্মণ ভক্তদল--ভক্তিরসে গলে পড়ছে তাঁর পদতলে মোমের মতো,

আমি নমঃশূদ্র অধম--সেখানে শুধুই ভিখিরি প্রজা পথেরি ধুলায় ধূসরিত।

যত রাজকবি শাহি দরবারে, লীলাবতীর কাব্যগীতি সংকীর্তন ঢঙে বাহবা বাহাছে অজ্ঞান।

রাজা মহাশয় ঢুলুঢুলু রক্তজবা চোখে-- ঈগল পালকে, কর্ণগহ্বর পরিচ্ছন্ন করতে করতে--

         'আহা! লীলাবতীর কি লীলাময় বাঁকা   

         হাসি! আহা মরি! মরি!' 

--বলতে বলতেই প্রায় জ্ঞান হারান।

লীলাবতীর রূপসরোবরে ডুবসাঁতারু সব সভাসদ; 

তার কাব্যের কুঁড়েঘরের খুঁটিসকল নড়বড়ে কি না--ছন্দের বাইস্কোপে চর্যাপদ টিকটিকি ঢুকে পড়ল কি না--চিত্রকল্প-উৎপ্রেক্ষা-উপমারা রাজপ্রাসাদের বাইরেই অনাহারে রইল কিনা!

ভ্রূক্ষেপ নেই কারো--না রাজবর্গ না রাজকবির,

সব নাস্তানাবুদ মগ্নচৈতন্যে; উপেক্ষিত যত আয়োজন।

আমি দূর থেকেই দেখি--লীলাবতীর সূর্যাস্ত আর সূর্যোদয়;

যদি হয় বোধোদয়, অভ্যুত্থান অভ্যুদয়!