যুক্তরাজ্যে আবারো অপরাধী ভুলবশত মুক্ত: এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ

যুক্তরাজ্যে আবারো অপরাধী ভুলবশত মুক্ত: এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ

ব্রিটেনে দ্বিতীয়বারের মতো এক বিদেশি অপরাধী ভুলবশত কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। ২৪ বছর বয়সী আলজেরিয়ান নাগরিক ব্রাহিম কাদ্দুর-শেরিফকে ২৯ অক্টোবর দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের এইচএমপি ওয়ান্ডসওয়ার্থ কারাগার থেকে ভুল করে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি জানানো হয় ৪ নভেম্বর—অর্থাৎ ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর।

এ ঘটনার মাত্র পাঁচ দিন আগেই এইচএমপি চেল্মসফোর্ড থেকে আরেক বিদেশি বন্দি হাদুশ কেবাতুকে ভুলবশত মুক্ত করা হয়েছিল, যার খোঁজে দুই দিনের অভিযান চালাতে হয়। লেবার এমপি রোসেনা আলিন-খান নিশ্চিত করেছেন যে নতুনভাবে নিখোঁজ ওই বন্দি কাদ্দুর-শেরিফ এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ওয়ান্ডসওয়ার্থ কারাগারের অব্যবস্থাপনা নিয়ে সরব।

স্কাই নিউজের খবরে জানা যায়, কাদ্দুর-শেরিফ চুরির উদ্দেশ্যে অনধিকার প্রবেশের অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন এবং পূর্বে যৌন অপরাধের অভিযোগেও তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং তাকে দ্রুত হেফাজতে ফেরানোর প্রচেষ্টা চলছে।

ঘটনা বিলম্বে জানানোর কারণ এখনও অজানা। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কনজারভেটিভ নেতা কেমি বাডেনক বলেন, এটি “সম্পূর্ণ ব্যর্থ সরকারের উদাহরণ”। সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে একাধিকবার জিজ্ঞেস করা হলেও উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এ বিষয়ে সরাসরি উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান।

ডেভিড ল্যামি বলেছেন, তিনি ঘটনাটি শুনে “অত্যন্ত ক্ষুব্ধ” এবং “ব্যথিত”। তিনি ইতোমধ্যেই স্বাধীন তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন, যা পরিচালনা করবেন ডেম লিন ওউন্স। ল্যামি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এ ধরনের ভুল রোধে নতুন নিরাপত্তা প্রটোকল চালু করা হয়েছে।

ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ল্যামির প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে জোরালোভাবে প্রশ্ন করা হলেও তারা জানাননি যে প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনা আগে জানতেন কিনা।

এদিকে রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “আরেক বিপজ্জনক অপরাধী পালিয়ে বেড়াচ্ছে—লেবার সরকারের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা।” সাম্প্রতিক সময়ে ভুলবশত বন্দি মুক্তির সংখ্যা বাড়ছে উদ্বেগজনকভাবে, মার্চ ২০২৪ থেকে মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত এমন ২৬২টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

এর আগে ২৫ অক্টোবর ইথিওপিয়ান নাগরিক কেবাতুকে ভুল করে মুক্তি দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যে আসার কিছুদিনের মধ্যেই ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। যদিও তাকে ১২ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, ভুলক্রমে তিনি মাত্র এক মাস পর মুক্ত হয়ে যান এবং পরে দুই দিনের খোঁজাখুঁজির পর তাকে বিতাড়ন করা হয়।

দেশটির অভিবাসন নীতি, কারাগার ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে এর মধ্যেই ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

সুত্রঃ lb24