ব্রিটেনের দুই-সন্তান ভাতা সীমা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক
ব্রিটেনের দুই-সন্তান ভাতা সীমা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভস কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফ্যারাজকে। তিনি অভিযোগ করেছেন, ফ্যারাজের অবস্থান কার্যত শিশুদের ত্বকের রঙের ভিত্তিতে দারিদ্র্যে রাখার পক্ষে।
আগামী বৃহস্পতিবার দুই-সন্তান ভাতা সীমা তুলে নিতে সংসদে আইন উত্থাপন করতে যাচ্ছে লেবার সরকার। র্যাচেল রিভস বলেন, তিনি আগেই এই সীমা তুলে নিতে চেয়েছিলেন, তবে বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য সঠিক সময়ের অপেক্ষা জরুরি ছিল।
অন্যদিকে নাইজেল ফ্যারাজ বলেছেন, এই ভাতা বাতিল হলে বিপুল সংখ্যক বিদেশে জন্ম নেওয়া পরিবার উপকৃত হবে—এই যুক্তিতে তার দল প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেবে। তিনি দাবি করেন, সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ-বংশোদ্ভূত পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
র্যাচেল রিভস এই মন্তব্যকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “কোনো শিশুর ত্বকের রঙ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া—কে দারিদ্র্যে থাকবে আর কে থাকবে না—এটা আমি মেনে নিতে পারি না।”
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও কনজারভেটিভ ও রিফর্ম ইউকের বিরোধিতাকে ‘নিষ্ঠুর জোট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। লেবার পার্টির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সরকারের প্রস্তাব কার্যকর হলে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ শিশু দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে পারে।
এই ইস্যুকে সামনে রেখে শিশু দারিদ্র্য ও সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নে যুক্তরাজ্যের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান।


