মানব সেবাকে ইবাদত মনে করে রমজানে বন্ধুদের মহৎ উদ্যোগ বিনা লাবের বাজার

মানব সেবাকে ইবাদত মনে করে রমজানে বন্ধুদের মহৎ উদ্যোগ বিনা লাবের বাজার

তানভীর চৌধুরী 

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে বিনা লাভের বাজার চালু করা হয়েছে। বিভিন্ন পণ্য কিনতে ভিড় করেছেন ক্রেতারা। যাঁর যাঁর পছন্দ ও চাহিদামতো বিভিন্ন ধরনের পণ্য কিনে নিয়েছেন। স্বাভাবিক বাজারের তুলনায় কম দামে পণ্য কিনতে পেরে ক্রেতারা খুশি। 

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের শহীদনগর বাজার পতনঊষারে ‘বিনা লাভের বাজারে গিয়ে জানা যায়, গত মঙ্গলবার থেকে এই বাজার চালু করেন নেছার, ফাহিম, সানি, সাকিব, সামাদ, সাকি, বেলাল ও ইলিয়াস নামে আট বন্ধু। প্রতিদিন দুপুর ২ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত পুরো রমজান মাস চলবে এই বাজার।

বিনা লাভের বাজারে যেসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে ,আপেল প্রতি কেজি ২৫০ টাকা, মাল্টা কেজি ৩০০ টাকা, দেশি পিয়াজ কেজি ৩৫ টাকা, দেশি রসুন কেজি ৬০ টাকা, চানা কেজি ৮০ টাকা, মশুরি ডালের কেজি ৮৫ টাকা, চানার ডাল কেজি ৫৮ টাকা, সেমাই ৩৮ টাকা, আলু কেজি ১৫ টাকা, শসা কেজি ৫৫ টাকা, গাজর কেজি ৩০টাকা, আদা কেজি ১০০ টাকা, কাচা মরিচ ১৩৫ টাকা, ধনিয়া পাতা কেজি ৩০ টাকা, কাচা মরিচ কেজি ১৩০ টাকা, আলু লম্বা ২কেজি ২৫ টাকা, লেবু হালি ৪৫ টাকা, কদু পিচ ২৫ টাকা, বেগুন কেজি ৪৫ টাকা। 

এখান থেকে বাজার করার পর মুছা আহমদ নামে ক্রেতা বলেন, দ্রব্য মূল্যেল উর্ধগতি যেন মানুষিক নির্যাতন, তাই আমি বিনা লাবের বাজার থেকে, কাচা মরিচ ১৩০ টাকা কেজি ধরে কিনেছি। অথচ বাজারে কাচা মরিচ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আলু ১৫ টাকা করে নিয়েছি বাহিরে ২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ধনিয়া পাতা এখানে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি করেছে বাহিরে ৬০ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এখানে বাজার করে আমার বেশ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

বিনা লাভের বাজারের উদ্যোক্তা ফাহিম, সানি, সাকিব ও সাকি বলেন, লাভ নয় সেবাই আমাদের মূল লক্ষ, সমাজের গরিব দুঃখি অসহায় দরিদ্র ও মেহনতী মানুষের দৈনন্দিন আয় কম, নুন আনতে পান্তা ফুরায়, তাই তাদের কথা চিন্তা করে রমজানে আমাদের এই উদ্দ্যেগ বিনা লাবের বাজার, পবিত্র রমজান মাস আসার সাথে সাথেই আমাদের দেশে অনেক পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সাধারণত নিম্ন আয়ের মানুষেরা অনেক কষ্ট করে রোজা মাসে চলতে হয়। এজন্য আমরা মাস ব্যাপি বিনা লাভের বাজারে চালু করেছি। যাতে অন্তত বিনা লাভের বাজার থেকে পণ্য কেনার পর কিছু টাকা সাশ্রয় হয় সাধারণ মানুষের। একই সাথে ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসবে।