মাটির কবর

মাটির কবর

কাজী শামীমা রুবী

পিতৃ গৃহে আদরের কন্যা জীবনটা হাসিখুশিতে ঝলমল

জীবনটাকে উপভোগ করার চোখে থাকে আনন্দ কৌতূহল। 

শরীরে অসুখ বিসুখ থাকেনা পিতার মনের রাজ্যে শাহাজাদী 

সুখ সাগরে ভেসে বেড়ায় সবার আদর সোহাগের অধিকারী।

আপন গন্ডি সফল ক্যারিয়ার সব ছেড়ে আসে স্বামীর ঘর

পিতামাতা ভাই বন্ধু আত্মীয় স্বজন সবাই হয়ে যায় পর।

বিয়ের পরে জীবনে আসে অজানা আশংকা আর ভয়

সংসার জীবনের অচেনা লোক অজানা কত কিছু সইতে হয়!

অচিরেই চঞ্চল মন মরে যায় টানতে হয় সন্তান সংসারে ঘানি

স্বামীর পরিবার আপন না হলে হয় যে স্বীয় সম্মানহানী।

নিজের শখ আহ্লাদ সব বিসর্জন দিয়ে তবু্ও পায়না কারো মন

নতুন পরিবারে মানুষ চেনা বড্ড জটিল কে পর কে আপন!

মুখ বুঝে সব অত্যাচার মেনে নিতে হয় বউ যে অবলা নারী

পুরুষ মহান দায়িত্ব নিয়েছে দিচ্ছে ঔষধ ভাত আর শাড়ি

বুকের মাঝে অব্যক্ত কষ্ট তনুমনে সহসা বাঁধে

শরীরে রোগ

কেউ জানেনা সবার অগোচরে চাপা যাতনা করতে হয় ভোগ।

শারীরিক মানসিক নির্যাতনে অকালে যন্ত্রণায় জীবন যায় ঝরে 

হাজার প্রচেষ্টায় সেই জীবন কে কখনো রাখা যায়না ধরে।

বারংবার কথার চাবুক সংসারের কাজ মানসিক উত্তেজনা

নতুন পরিবারে স্বামীর সোনার সংসার নারীর থাকে বাসনা।

বিয়ের পরে অধিকার থাকেনা আপন পিতা মাতার হয় পর

পিতা ছেলে স্বামীর ঘর আছে নারীর নিজের নাইতো ঘর।

ভিতরে শূন্যতা বাহিরে চাকচিক্য অশান্ত হৃদয়ে ধরপর

নারীর ঠিকানা বরাদ্দ থাকে শুধু সাড়ে তিন হাত মাটির কবর।