ভয়ংকর চিত্র ব্রিটেনে প্রায় অর্ধেক চালকই ড্রাগ সেবনকারী

ভয়ংকর চিত্র ব্রিটেনে প্রায় অর্ধেক চালকই ড্রাগ সেবনকারী

সাইফ হাসান:
যুক্তরাজ্যে এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। ডেভন ও কর্নওয়াল পুলিশের পরীক্ষায় প্রায় অর্ধেক (৪৫%) চালকই ড্রাগ টেস্টে পজিটিভ হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ বছরের কিশোরও রয়েছে যে গাঁ*জা সেবন করে গাড়ি চালাচ্ছিল। পুলিশ এখন অ্যালকোহলের পাশাপাশি ড্রাগ-ড্রাইভিং নিয়েও সচেতনতা বাড়াচ্ছে। বড়দিনকে সামনে রেখে এই অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

ডেভন ও কর্নওয়াল পুলিশের তথ্য মতে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ১,২৪৫ জন চালকের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। আশ্চর্যজনকভাবে, তাদের মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশের শরীরেই অবৈধ মাদকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

উদ্বেগের বিষয় হলো, মাদক সেবন করে গাড়ি চালকদের মধ্যে কিশোর-কিশোরীরাও রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে নিউকুয়েতে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে গাঁজা সেবন করা অবস্থায় এবং নিউটন অ্যাবটে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে কোকেন সেবন করা অবস্থায় পজিটিভ পাওয়া গেছে।

প্যাট্রোল ইন্সপেক্টর ওয়েস ওয়াটকিনস বলেছেন, মদ্যপানের পাশাপাশি মাদক সেবন করে গাড়ি চালানোও একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা বছরের পর বছর অ্যালকোহল নিয়ে বেশি মনোযোগ দিয়েছি, কিন্তু ড্রাগ-ড্রাইভিংয়ের দিকটা হয়তো সেভাবে প্রচার করিনি।” তিনি জানান, এই ধরনের চালকরা নিজেদের, যাত্রীদের এবং রাস্তার অন্যান্য ব্যবহারকারীদের চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

এই সমস্যা মোকাবেলায়, সাউথ ডেভনে অতিরিক্ত ৬০ জন ফ্রন্টলাইন অফিসারকে রাস্তায় তাৎক্ষণিক ড্রাগ পরীক্ষার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা ‘ড্রাগওয়াইপ’ নামক একটি ডিভাইস ব্যবহার করছেন যা মুখের লালা পরীক্ষা করে গাঁজা ও কোকেনের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারে।

‘এএ’ (AA) এর প্রেসিডেন্ট এডমন্ড কিং বলেছেন, এটি একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা এবং অনেকেই এর ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সচেতন নন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই অপরাধে ধরা পড়লে চালকদের কমপক্ষে এক বছরের জন্য লাইসেন্স বাতিল, মোটা অংকের জরিমানা এমনকি পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।