নাজরিন আরা এর দুটো কবিতা
১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ এক বদ্ধভৃমি
নাজরিন আরা
১৪ই ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস প্রতি বছর ফিরে ফিরে আসে
আসো না তোমরা যারা চলে গেছো চিরতরে,
রক্তের নদী বেয়ে।
আজকের দিন তোমাদের স্মরণে,
যারা দিয়েছো প্রাণ স্বাধীনতার মহা সংগ্রামে
১৪ ডিসেম্বর,
সেই দিন চির ভাস্বর ঙানী গুণী তোমাদের স্বরণে।।
আজ সেই পাকিস্তানি হানাদারদের নারকীয় কাহিনির রক্ত নদী দিন
এত ভয় ছিল পাকিদের তাই মেরুদণ্ড ভাঙ্গলো জাতীর
ভেবেছিল পাকি, স্বাধীনতা পেলেও, উঠে দাঁড়াবে না বাঙালি জাতী।
তোমরা ছিলে শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার
সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিক
তোমরা ছিলে দেশের মাথা বুদ্ধির আলো, জ্ঞানের প্রতীক।
পাকিস্তানি হানাদারেরা তোমাদের বেছে বেছে হত্যা করেছে
বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নকে ভেঙে দিতে।
কিন্তু তোমরা হারাওনি তোমাদের আত্মা বেঁচে আছে বাঙালি হদয়ে স্বাধীনতার চেতনার সমুদ্র
তোমাদের আত্মার শান্তি কামনায়, শিখা চিরন্তন জ্বালি।
১৪ই ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজকের দিনে, স্মরণ করি।
কোটি হৃদয়ে আছো,. আছো এ জন্ম ভূমে
শহীদের রক্তে ভেজা মাটি, কাঁদে বাতাস, কাঁদে আকাশ তোমাদের রক্ত দাগে।
কত শহীদের লুটিয়ে পড়া দেহ,কত মায়ের কান্না, কত বোনের নিঃশ্বাস।
আমরা, ভুলিনি তাদের _তারা আছে, থাকবে চির অম্লান।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস একটি দিন, একটি ইতিহাস। কাঁদে আকাশ বাতাস।
রক্তের বন্যা, বধ্যভূমিতে
আজও তাদের আত্মার কান্না, বাতাসে হাহুতাশ।
শহীদের রক্তে আমাদের স্বাধীনতা।
রক্তাত্ব 14 ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
সৃষ্টি হলো তোমাদের রক্তে, যুগে যুগে রেখে গেলে কালের স্বাক্ষর
বাংলার মাটিতে যারা দিয়েছিল প্রাণ,
শহীদ বুদ্ধিজীবী, তোমাদের জানাই শ্রদ্ধা ও সালাম।
তোমাদের আদর্শ, তোমাদের চেতনা,
বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরকাল থাকবে অম্লান
সত্য সুন্দর পথের অনুসারী
বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন বাংলার মুক্তির কান্ডারী।
মিরপুর , রায়েরবাজার
সেখানে আছে শহীদের রক্তের চিহ্ন।
বুদ্ধিজীবীদের হত্যার সেই কালো দিন,
বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরকাল থাকবে অমলিন।
মিরপুর, রায়েরবাজার হলো এক জল্লাদখানা,
এই সব জায়গায় চালানো হয়েছিল গণহত্যা।
বুদ্ধিজীবী, ছাত্র, শিক্ষক, শিল্পী,
সবাইকে হত্যা করা করেছিল কি জঘন্য ঐ কুৎসিত নরখাদক পাকিস্তানি।
বধ্যভূমি '71, এক শোকের স্মৃতি, এক রক্তাক্ত ইতিহাস
বাঙালি জাতি কোনদিন ক্ষমা করবে না তোদের,
তোরা পৃথিবী নামক গ্রহে এক চরম অবিশ্বাস।
শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মরণে এডিট
একাত্তর _চেতনার রন্ধ্রে রন্ধ্রে আগুন জ্বলা উদ্দীপ্ত আহ্বান।
সেদিন পাকিস্তানি হানাদার আর রাজাকার আলবদর আস শামস
ঘরের শক্র বিভীষণে ছিল এদেশ একাকার।
চারদিকে যুদ্ধ তার মাঝে নরখাদকের নৃত্য
পিশাচের নৃত্য, রক্তনেশার নৃত্য
মানুষের রক্তে নেচেছিল যাদের চিত্ত।
যে মেয়ের চোখে ছিল দুরন্ত রৌদ্র দিন
এক নিমেষে হল ছিন্নভিন্ন চৌচির।
আমি দেখেছি পঁচিশ মার্চের ভয়াল সেই কাল্ রাত
নির্ঘুম নিঃশ্চুপ নিঃশব্দ নিঃশ্বাস গোণা সেই রাত।
তারি মাঝে বিরতীহীন রাইফেল, বন্দুক মর্টার স্টেনগানের মূর্হমূহ কলিজা খাঁপানো শব্দ আমি শুনেছি,
ভয়ের শিরশিরানি ঘাম ঝরা সেই রাত আমি দেখেছি।
ছিলাম তাদের সাথে ঘরছাড়া জনস্রোতে
লোকালয় ছেড়ে গ্রাম, গ্রাম ছেড়ে করতোয়া নদী পাড়ে।
পাড় ধরে ছুটে চলা এই আমি আর জনতা
মর্টার মেশিনগানের আগুন বৃষ্টি ঝরা_ তবুও দিগ্বিদিগ চলা।
ছুটে চলা সেই সব ভয়ার্ত মানুষের মুখ আমি দেখেছি।
আর বেঁচে থাকার আকুলিতে ছুটে চলেছি ঘরছাড়া মানুষের কাতারে,।
র্হার্টের রুগী মা ছুটছেন নীচু হয়ে আমার হাত ধরে
সেই অজানা পথে ছুটে চলা কোথায় গন্তব্য ছিল না তো জানা।
সেই নগ্ন পায়ের কষ্ট বুকে নিয়ে আজও আমি
জেগে আছি যেন শিখা চিরন্তনী।
১৪ ডিসেম্বর বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের করল ওরা প্রাণনাশ।
করুণ রক্তাক্ত দিন, বিবেকের কন্ঠ রোধ করা সেদিন, হলো বাংলার বিষম সর্রনাশ আজও তা অমলিন।
ভুলিনি ভুলবো না মুছে যাবে না জাতির কাছে তোমাদের রক্তের ঋণ।
শিক্ষক প্রকৌশলী ডাক্তার উকিল জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান
সেলিনা পারভীন জ্যোর্তিময়গুহ ঠাকুরতা মুনীর চৌধূরি জহীর রায়হান
শহীদুল্লাহ কায়সার কতশত গুণীজন দিল প্রাণ।
রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে আজও বাতাস কেঁদে ফেরে
মিরপুরের গণকবরে দেশের সূর্য সন্তানেরা হাহাকার করে।


