ব্রিটেনে এসাইলাম সীকারদের স্থায়ী বসবাসের পথ বন্ধ হতে যাচ্ছে

ব্রিটেনে এসাইলাম সীকারদের স্থায়ী বসবাসের পথ বন্ধ হতে যাচ্ছে

নূরজাহান শিল্পী

ব্রিটেনের এসাইলাম নীতি এখন একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখোমুখি। আগামী সোমবার হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদ যে ঘোষণা দিতে চলেছেন, তাতে বলা হবে—

এখন থেকে ব্রিটেনে আশ্রয় পাওয়া মানুষদের স্থায়ীভাবে নয়, সাময়িকভাবে থাকতে দেওয়া হবে।
কেন এ পরিবর্তন?

শাবান মাহমুদ মনে করেন, ব্রিটেনে আশ্রয়প্রার্থী এবং ছোট নৌকায় চ্যানেল পাড়ি দেয়া মানুষের সংখ্যা কমাতে হলে নীতি কঠোর করা জরুরি। তাই তিনি বলতে চলেছেন যে “স্থায়ী সুরক্ষার যুগ শেষ হচ্ছে।”

কীভাবে কাজ করবে নতুন ব্যবস্থা?

এ নতুন পরিকল্পনায়,
• আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিরা শুধু অস্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে থাকতে পারবেন।
• নিয়মিতভাবে তাদের অবস্থার পর্যালোচনা হবে।
• নিজ দেশ “নিরাপদ” মনে হলে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে শরণার্থী মর্যাদা সাধারণত পাঁচ বছর থাকে, এরপর তারা স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি (indefinite leave to remain) পেতে পারেন এবং পরবর্তীতে নাগরিকত্বের সুযোগও থাকে।

ডেনমার্ক: যুক্তরাজ্যের নতুন অনুপ্রেরণা: 

এই নীতি কোনো মৌলিক উদ্ভাবন নয়। আসলে এটি ডেনমার্কের মডেল থেকে নেওয়া।

ডেনমার্কে,
• শরণার্থীদের সাধারণত দুই বছরের অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়।
• মেয়াদ শেষ হলে আবার নতুন করে আবেদন করতে হয়।
• আগে যে অনুমতি নবায়নের সম্ভাবনা বেশি ছিল, সেটিও বাতিল করা হয়েছে।
• নাগরিক হওয়া আরও কঠিন হয়ে গেছে।

ডেনমার্কের কঠোর নীতি আশ্চর্যজনকভাবে জনপ্রিয় হয়েছে। সরকারের সমর্থন বেড়েছে এবং ডানপন্থী পপুলিস্ট দলের জনপ্রিয়তা কমেছে।

এ কারণে শাবান মাহমুদ সহ ব্রিটিশ মন্ত্রীরা ডেনমার্ককে “দৃষ্টান্ত” মনে করেন।

গত সপ্তাহে বিবিসি জানিয়েছে, তিনি হোম অফিসের সিনিয়র কর্মকর্তাদের ডেনমার্কে পাঠিয়েছেন তাদের ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে শেখার জন্য।

নীতিটি শুধু অস্থায়ী শরণার্থী মর্যাদায় সীমাবদ্ধ নয়। ডেনমার্কে পরিবার পুনর্মিলন (spouse/child আনা) আরও কঠোরভাবে সীমিত।

শাবানা মাহমুদ বিশ্বাস করেন, এই কঠোর নীতি শরণার্থী দাবিকে নিরুৎসাহিত করেছে—কারণ ডেনমার্কে সফল আবেদন এখন ৪০ বছরের সর্বনিম্ন।

তার যুক্তি, যুক্তরাজ্যের তুলনামূলক উদার ব্যবস্থা মানুষকে আকর্ষণ করছে এবং ছোট নৌকায় ব্রিটেনে প্রবেশ বাড়াচ্ছে।

ডেনমার্ককে নকল করার ঝুঁকিঃ 

ডেনমার্ক চার বছর আগে সিরিয়ার সংঘাত চলাকালেও দামাস্কাসের কিছু অংশ “নিরাপদ” বলে ২০০-র বেশি মানুষকে ফেরত পাঠাতে চেয়েছিল।এটি তখন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল।

যুক্তরাজ্যে যদি একই পথে এগোনো হয়, তবে বিরোধিতা নিশ্চিত:

• লেবারের এমপি ক্লাইভ লুইস বলেছেন, ডেনমার্কের ব্যবস্থা “ফার-রাইটের ভাষার মতো।”
• নাদিয়া হুইট্টোমে এটিকে বলেছেন “নৈতিক, রাজনৈতিক এবং নির্বাচনীভাবে—একটি অচল রাস্তা।”

শাবানা মাহমুদ জানেন, নিজের দলের ভেতর থেকেই আপত্তি উঠবে—এ কারণে তিনি সোমবার সংসদে বক্তৃতায় সতর্কবার্তা দিতে চলেছেন:

“আপনি যদি এটা পছন্দ না করেন, তাহলে পরে যা আসছে তা আরও কম পছন্দ করবেন।”
তার দাবি, কঠোর সিদ্ধান্ত না নিলে “ডার্কার ফোর্সেস”—যেমন পপুলিস্ট শক্তিগুলো—আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
 
ECHR-কে কেন্দ্র করে নতুন লড়াইঃ 

শাবান মাহমুদ মনে করেন, ডেনমার্কের মডেল বিশেষভাবে আকর্ষণীয় কারণ তারা ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশন (ECHR) থেকে বের না হয়েও এই কঠোর নীতি চালাতে পেরেছে।

তবে তিনি এবং তার ডেনিশ সমকক্ষ দু’জনেই চান ECHR-এ এমন সংস্কার হোক যাতে “অ্যাক্টিভিস্ট বিচারকরা” পরিবার-জীবনের অধিকারকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে না পারেন, বিশেষ করে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে।
 
বিরোধীদের অবস্থানঃ 

Reform UK বলছে, শরণার্থীদের অস্থায়ী মর্যাদা নয়—চ্যানেল পাড়ি দেয়া লোকদের তারা আটক ও বহিষ্কার করবে।

কনজারভেটিভরা বলছে, ছোট নৌকা বন্ধ করার একমাত্র উপায় হলো তাদের রুয়ান্ডা-ডিপোর্টেশন স্কিম ফিরিয়ে আনা—যেটি লেবার বাতিল করেছে।

সংবাদ সূত্রঃ বিবিসি থেকে অনূদিত 
১৪ নভেম্বর ২০২৫