শ্যাবানা মাহমুদের ‘অভিবাসী পরিচয়’ কি কঠোর নীতি ঢাকার ঢাল?

শ্যাবানা মাহমুদের ‘অভিবাসী পরিচয়’ কি কঠোর নীতি ঢাকার ঢাল?


সাইফ হাসান:
ব্রিটিশ লেবার পার্টির নেতা শ্যাবানা মাহমুদ সম্প্রতি নতুন কঠোর আশ্রয় নীতি ঘোষণা করেছেন। এই নীতির সপক্ষে তিনি নিজের অভিবাসী পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের মতে, শ্যাবানা মাহমুদের এই ‘অভিবাসী গল্প’ আসলে তাঁর নিষ্ঠুর নীতিকে ন্যায্যতা দেওয়ার একটি চতুর প্রচেষ্টা। এর মাধ্যমে তিনি বর্ণবাদ ও বিদেশীভীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলেও মনে করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে কর্তৃত্ব ও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে বলে মত কলামিস্ট নেসরিন মালিকের।

কলামিস্ট নেসরিন মালিকের মতে, শ্যাবানা মাহমুদ তাঁর নতুন আশ্রয় দমন নীতির সাথে নিজের “অভিবাসী ফেবেল”কে এক করে উপস্থাপন করেছেন। শ্যাবানা মাহমুদ নিজেকে “অভিবাসীদের সন্তান” হিসেবে পরিচয় দিলেও, তাঁর প্রস্তাবিত নীতি অনুযায়ী যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া শিশুদেরও নির্বাসন দেওয়া হতে পারে। এই নীতি শরণার্থীদের গৃহহীন করা, পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করা এবং সুবিধা দাবি করার জন্য বৈধ নাগরিকদেরও শাস্তি দেওয়ার মতো কঠোর শর্ত রেখেছে।

মালিক তাঁর লেখায় যুক্তি দেন যে, মাহমুদ এই নীতিকে ‘নৈতিক মিশন’ হিসেবে দাবি করলেও এর মধ্যে স্পষ্ট যুক্তিহীনতা রয়েছে। মাহমুদের দাবি, অভিবাসীদের বেশি অধিকার দিলে বর্ণবাদ ও বিদেশিদের প্রতি ঘৃণা বাড়ে এবং অধিকার কমালে এই ঘৃণা হ্রাস পাবে। মালিকের মতে, এটি একটি সরলীকৃত ও ভুল ধারণা যা অভিবাসন সম্পর্কে জনসমক্ষে প্রচলিত ভুল ধারণাকেই কাজে লাগাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্যাবানা মাহমুদ কৃষ্ণাঙ্গ ও অভিবাসীদের বংশধর হওয়া সত্ত্বেও সুয়েলা ব্রাভারম্যান বা প্রীতি প্যাটেলের পথেই হাঁটছেন। তিনি তাঁর পরিচয় ব্যবহার করে অভিবাসন বিষয়ে নিজের কঠোর রাজনীতিকে বৈধতা দিতে চাইছেন। মালিকের মতে, এটি ‘লেট-স্টেট আইডেন্টিটি পলিটিক্স’, যেখানে পরিচয়ের বয়ানকে সমতার জন্য নয়, বরং কর্তৃত্বকে সমুন্নত রাখার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

শ্যাবানা মাহমুদের পূর্বের অবস্থানও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি একসময় দশ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী অবৈধ কর্মীদের সাধারণ ক্ষমার সমর্থন করেছিলেন এবং ২০২০ সালে নির্বাসন ফ্লাইট বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। অথচ এখন তিনি নির্বাসন প্রক্রিয়াকে ‘ব্যাহত’ করা শেষ মুহূর্তের ‘উত্ত্যক্তকারী দাবিগুলো’র বিরুদ্ধে লড়াই করার অঙ্গীকার করছেন। মালিক এটিকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদ ও ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে দেখছেন।