“হোয়াইটচ্যাপেলে বাংলা সাইনবোর্ড নিয়ে কেন নীরব প্রতিনিধিত্ব'

“হোয়াইটচ্যাপেলে বাংলা সাইনবোর্ড নিয়ে কেন নীরব প্রতিনিধিত্ব'

নূরজাহান শিল্পী 

লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল স্টেশনে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা সাইনবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে আবারও ফিরে এসেছে ‘বহুসংস্কৃতি বনাম এক-সংস্কৃতি’ বিতর্ক। অথচ সবচেয়ে নীরব রয়েছেন ব্রিটেনের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি ও রাজনৈতিক নেতারা—যাঁদের এই প্রসঙ্গেই বক্তব্য রাখার কথা ছিল সবচেয়ে জোরালোভাবে।

বিতর্কের সূত্রপাত করেন সাবেক কনজারভেটিভ মেয়র প্রার্থী সুসান হল। তাঁর দাবি—বাংলা সাইনবোর্ড ‘অগ্রহণযোগ্য’; এলাকাবাসীর উচিত ইংরেজি শিখে মূলধারায় ‘একা’ যাবার চেষ্টা করা।

জবাবে লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বলেন,

> “লন্ডনের বৈচিত্র্যই লন্ডনের শক্তি।”

ইতিহাসের দিকে ফিরে দেখা

হোয়াইটচ্যাপেল শুধু একটি ভূগোল নয়; এটি বাংলাভাষী অভিবাসীদের সংগ্রামের স্মৃতি-বহনকারী এক প্রতীক।

১৯৭৮ সালে বর্ণবাদীদের হাতে নিহত শ্রমিক আলতাব আলীর মৃত্যু এখানে শুরু করেছিল ঐতিহাসিক বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন—যা ইস্ট লন্ডনে ঘৃণা-রাজনীতির অগ্রযাত্রা রুদ্ধ করতে ভূমিকা রাখে।

তাই বাংলা সাইনবোর্ড কেবল ভাষার উপস্থিতি নয়—এটি ইতিহাস, স্মৃতি ও আত্মপরিচয়ের দৃশ্যমান স্বীকৃতি।

টাওয়ার হ্যামলেটসে মোট জনসংখ্যার ৩৪% এবং হোয়াইটচ্যাপেলে প্রায় ৩৮% মানুষ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। সুতরাং বাংলা সাইনবোর্ড কোনো ব্যতিক্রম নয়; এটি বাস্তব সামাজিক গঠনকেই প্রতিফলিত করে।

তাহলে নীরবতা কেন?

বিতর্ক মিডিয়ায় তুঙ্গে, সামাজিক মাধ্যমে উত্তাপ স্পষ্ট। লন্ডনের রাজনৈতিক পরিসরেও এটি সক্রিয় আলোচনার বিষয়।

কিন্তু যাঁরা এই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করেন—বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি, কাউন্সিলর ও মূলধারার নেতারা—তাঁদের অনেকেই নীরব থাকছেন।

এই নীরবতার কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে—

রাজনৈতিক সংযম ও কৌশলগত দূরত্ব—বিভাজনমূলক ইস্যু এড়িয়ে চলা।

দলীয় অবস্থান বা চাপ—পার্টির ভিতর মত প্রকাশে সীমাবদ্ধতা।

“অতিরিক্ত নিজের সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি” হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আশঙ্কা—যা পশ্চিমা রাজনীতিতে প্রায়ই নেতিবাচকভাবে ব্যবহৃত হয়।

কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়:

যেখানে ভাষা, পরিচয়, ইতিহাস ও সাম্প্রদায়িক নিরাপত্তার প্রশ্ন যুক্ত—সেখানে নীরবতা কি সত্যিই বিকল্প হতে পারে?

হোয়াইটচ্যাপেলের বাংলা সাইনবোর্ড আজ শুধুই নির্দেশক নয়—এটি এক লড়াইয়ের স্মারক, এক অস্তিত্বের চিহ্ন, এক কমিউনিটির বহু দশকের গল্প।

এ গল্প বলার দায়িত্ব শুধু ইতিহাসের নয়—আমাদের বর্তমান প্রতিনিধিদেরও।