রিফর্ম ইউকে ২০২৮ সালের লন্ডন মেয়র নির্বাচনে লায়লা কানিংহামের নাম ঘোষণা করেছে     

রিফর্ম ইউকে ২০২৮ সালের লন্ডন মেয়র নির্বাচনে লায়লা কানিংহামের নাম ঘোষণা করেছে      

    


সাইফ হাসান:
২০২৮ সালের লন্ডন মেয়র নির্বাচনের জন্য অনেক আগেই প্রার্থী ঘোষণা করে চমক দিয়েছে রিফর্ম ইউকে। ওয়েস্টমিনিস্টার সিটি কাউন্সিলের বর্তমান সদস্য লায়লা কানিংহামকে এই পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। লন্ডনে জন্ম নেওয়া এবং মিশরীয় বংশোদ্ভূত কানিংহাম গত বছর কনজারভেটিভ পার্টি থেকে রিফর্ম ইউকেতে যোগ দিয়েছিলেন। নাইজেল ফারাজের উপস্থিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি লন্ডনের বর্তমান মেয়র সাদিক খানের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অপরাধ দমনে ‘অল-আউট ওয়ার’ বা সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজেকে শহরের নতুন ‘শেরিফ’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

রিফর্ম ইউকে তাদের নির্বাচনি প্রচারণায় লন্ডনকে নতুন করে সাজানোর অঙ্গীকার করেছে। লায়লা কানিংহাম জানিয়েছেন তার প্রধান লক্ষ্য হবে ছুরি হামলা, ড্রাগ, ডাকাতি এবং চুরির মতো অপরাধগুলো নির্মূল করা। তিনি মেট্রোপলিটন পুলিশের জন্য নতুন কর্মপরিকল্পনা তৈরির কথা বলেছেন।

লায়লা কানিংহাম আরও ঘোষণা করেছেন যে তিনি ক্ষমতা পেলে লন্ডনের বিতর্কিত ‘আল্ট্রা-লো এমিশন জোন’ বা ইউলেজ (Ulez) প্রথা পুরোপুরি বাতিল করবেন। তার মতে বর্তমান মেয়র সাদিক খানের অধীনে শহরটি তার ঐতিহ্য হারাচ্ছে। তিনি লন্ডনের মানুষের কাছে এক ভিন্ন বার্তা নিয়ে পৌঁছাতে চান।

রিফর্মের এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি বলেছে যে রিফর্ম ইউকে কেবল বিভাজন এবং অবনতি ছাড়া আর কিছুই দিতে পারবে না। তারা দাবি করেছে লন্ডন একটি বহুসংস্কৃতির শহর যা রিফর্ম ইউকের মতাদর্শের সম্পূর্ণ বিপরীত। সাদিক খানের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে মেয়র বর্তমানে শহরটিকে আরও নিরাপদ ও সবুজ করার কাজে ব্যস্ত আছেন।

লন্ডনের রাজনীতিতে এখন বড় প্রশ্ন হচ্ছে ২০২৮ সালের নির্বাচনে কি লায়লা বনাম সাদিক খানের লড়াই হবে? যদিও সাদিক খান চতুর্থবারের মতো লড়বেন কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে নির্বাচনের আড়াই বছর আগেই প্রার্থী ঘোষণা করে রিফর্ম ইউকে একটি বড় রাজনৈতিক চাল চেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।