ব্রিটেনে অভিবাসীদের ওপর পুলিশের কুকুর ও টিয়ারশেল দিয়ে হা*মলা

ব্রিটেনে অভিবাসীদের ওপর পুলিশের কুকুর ও টিয়ারশেল দিয়ে হা*মলা

    


সাইফ হাসান
যুক্তরাজ্যের দুটি ডিটেনশন সেন্টারে ‘ওয়ান ইন ওয়ান আউট’ নীতির প্রতিবাদে শতাধিক অভিবাসী আন্দোলন শুরু করলে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাঙ্গাবিরোধী পুলিশ কুকুর এবং টিয়ারশেল নিয়ে তাদের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে এবং অমানবিক আ*ঘাত করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিবাসীরা ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর আতঙ্কে ছিলেন কারণ সেখানে তাদের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তুমুল হট্টগোলের মধ্যেই অনেককে জোর করে ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হয়েছে।

লন্ডনের হিথ্রোর কাছে হারমন্ডসওয়ার্থ এবং গ্যাটউইকের কাছে ব্রুক হাউস ডিটেনশন সেন্টারে বুধবার রাতে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আটক অভিবাসীরা জানান, তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিমানে উঠতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিলেন কারণ ফ্রান্সে পাচারকারীদের কাছ থেকে তারা হুমকির সম্মুখীন হতে পারেন। এছাড়া সেখান থেকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোরও ভয় ছিল তাদের।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ টিয়ারশেল ছোড়ে এবং কুকুর নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। একজন আটক ব্যক্তি ফোনে জানান, পুলিশ তাদের ওপর টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে যার ফলে তাদের শরীর ও চোখ জ্বলছিল। বিশেষ বাহিনী এসে জোর করে অনেককে রুম থেকে বের করে নিয়ে যায় এবং মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিবাসীরা এক বার্তায় আকুতি জানিয়ে বলেন, তারা কোনো অপরাধী বা পশু নন, তাই তাদের সাথে যেন মানবিক আচরণ করা হয়। তারা প্রশ্ন তোলেন, চ্যানেল পাড়ি দেওয়া হাজার হাজার মানুষের মধ্যে মাত্র কয়েকশ মানুষকে কেন এভাবে আটকে রাখা হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনাকে অমানবিক বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

সরকারের এই ‘ওয়ান ইন ওয়ান আউট’ নীতি অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ১৯৩ জনকে জোর করে ফ্রান্সে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালেও একটি ফ্লাইট অভিবাসীদের নিয়ে ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। সমালোচকরা বলছেন, সরকারের এই পরিকল্পনা খুব একটা কাজে আসছে না কারণ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া মানুষের সংখ্যা কমছে না।