যুক্তরাজ্যে যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যে যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যে যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। গত বছর তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্রান্ট শ্যাপস মন্তব্য করেছিলেন, বিশ্ব এখন ‘যুদ্ধ-পরবর্তী নয়, যুদ্ধ-পূর্ব’ বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যার প্যাট্রিক স্যান্ডার্সও বাহিনীর আকার বাড়ানো ও জনসাধারণের প্রস্তুতি বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

যদি যুক্তরাজ্য কোনো বৃহৎ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং সেনাসংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজন হয়, তবে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালুর প্রশ্ন সামনে আসতে পারে। ইতিহাস বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঠিক আগে ১৯৩৯ সালে প্রথম দফায় ২০ থেকে ২২ বছর বয়সী অবিবাহিত পুরুষদের তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা বাড়লে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার আওতায় আনা হয়েছিল।

যুদ্ধ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সেই বয়সসীমা বাড়িয়ে ১৮ থেকে ৪১ বছর করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও সম্প্রসারিত হয়ে পুরুষদের ক্ষেত্রে ৫১ বছর পর্যন্ত পৌঁছায়। এমনকি ৫২ থেকে ৬০ বছর বয়সীরাও কোনো না কোনোভাবে সামরিক দায়িত্বে যুক্ত হতে বাধ্য হন।

সেই সময় কেবল চিকিৎসাগতভাবে অযোগ্য ব্যক্তি এবং কৃষি, খাদ্য উৎপাদন, চিকিৎসা ও প্রকৌশলের মতো জরুরি খাতে নিয়োজিত কর্মীরাই অব্যাহতি পেয়েছিলেন। যুদ্ধের শেষভাগে নারীদেরও সেনাসেবা ও সহায়ক ভূমিকায় যুক্ত করা হয়।

বর্তমান জনমত অবশ্য সেনাসেবার বিষয়ে বিভক্ত। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৪০ বছরের নিচে উল্লেখযোগ্য অংশের মানুষ নতুন কোনো বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে অনিচ্ছুক। তবে একই জরিপে অধিকাংশ উত্তরদাতা নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য বাধ্যতামূলক সেনাসেবার পক্ষে মত দিয়েছেন।

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে সেনাসেবা প্রত্যাখ্যান করলে কী পরিণতি হতে পারে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিবেকগত কারণে অস্ত্র ধরতে অস্বীকৃতি জানানো ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হয়েছিল এবং অনেককে বিকল্পভাবে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা হয়।